Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:০০ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সার্জেন্টকে মারধর
সার্জেন্ট কাওসার হামিদকে মারধর করার সময়ের দৃশ্যঃ ছবি প্রথম আলো

দায়িত্বরত সার্জেন্টকে মারধর: ৪০শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

গতকাল ১৭ জুলাই রাজধানীর বাংলা মটর ক্রসিংয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কর্তৃক দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্টকে মারধর করার ঘটনায় আজ রমনা থানায় ৩০/৪০ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

লাঞ্চিত সার্জেন্ট কাওসার হামিদ বাদী হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০/৪০ জন অজ্ঞাতনামা ছাত্রের বিরুদ্ধে আজ দুপুর ১টায় রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার হতে জানা যায়, গতকাল ১৭ জুলাই বিকাল ৫ টায় বাংলা মটর ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন সার্জেন্ট কাওসার হামিদ। এ সময় রূপসী বাংলা ক্রসিং হতে ফার্মগেইট যাওয়ার পথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বহনকারী ডাবল ডেকার ৩ টি বিআরটিসি বাস বিকাল ৫ টার সময় বাংলা মটর ক্রসিংয়ে এসে পৌঁছায়। পৌঁছানোর পর রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম দেখে ট্রাফিক সিগন্যালের তোয়াক্কা না করে উল্টো দিকে যাওয়ার জন্য ডাবল ডেকার বাসের সামনের অংশ বিপরীত লেনে ঢুকায়।

এসময় দায়িত্বরত সার্জেন্ট বাসকে উল্টো পথে না যেয়ে সঠিক পথে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু বাস তিনটি উল্টো পথে দাঁড়িয়ে গাড়ি চলাচলের পথ আটকিয়ে রাখে। গাড়ীর চালককে দ্রুত গাড়ী সরিয়ে তাদের সঠিক পথে যাওয়ার জন্য বলতে না বলতে অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০ জন ছাত্র ডাক চিৎকার দিয়ে গাড়ী থেকে নেমে সার্জেন্টের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং উল্টো পথেই তাদেরকে যেতে দিতে হবে বলে জোরজবরদস্তি করতে থাকে।

ইতোমধ্যে বাংলা মটর হতে ফার্মগেইট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে সার্জেন্ট পুনরায় গাড়ী ৩ টিকে সঠিক পথে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। উল্টো পথে তাদেরকে যেতে না দেয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতনামা ওই ছাত্ররা সার্জেন্টকে ঘিরে ধরে এলোপাতারী মারধর শুরু করে এবং পরিহিত ইউনিফর্মের বিভিন্ন অংশ ছিঁড়ে ফেলে। তাৎক্ষণিক কর্তব্যরত টিআই, সার্জেন্ট ও ট্রাফিক কনস্টেবল এসে উক্ত সার্জেন্টকে ছাত্রদের হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

নিজের দায়িত্বের প্রতি অটল থেকে এক পাও সরেননি সার্জেন্ট কাওসার হামিদ। সঠিক পথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বহনকারী বাসগুলো যেতে বাধ্য করেছিলেন তিনি।