ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:২৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

দার্জিলিংএ 'পুলিশ-গোর্খা' সংঘর্ষ
পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা

দার্জিলিংএ ‘পুলিশ-গোর্খা’ সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহতের দাবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং পাহাড়ে আজ পুলিশ আর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করছে । তাদের দাবি সকলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী জানিয়েছেন, পুলিশ এদিন গুলি চালায় নি এবং কারও মৃত্যুর খবরও নেই বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।

মিজ ব্যানার্জী হিংসা ছেড়ে দিলে সরকার আলোচনার জন্য তিনি তৈরি বলে ঘোষণা করলেও গোর্খা নেতা বিমল গুরুং পুলিশের এই কথিত গুলি চালনার বিরুদ্ধে সবাইকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে প্রতিবাদে সামিল হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার সকালে দার্জিলিং শহরের তিনদিক থেকে আসা তিনটি মিছিল পুলিশ আটকিয়ে দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শহরে ১৪৪ ধারা জারি থাকার কারণেই মিছিল আটকানো হয়েছিল।

একটা সময়ে দুদিক থেকে আসা মিছিলের কয়েক হাজার যুব ও নারী মোর্চা কর্মী কম সংখ্যক পুলিশদলকে ঘিরে ফেলে। তারপরেই কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে পেছাতে থাকে বাহিনী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গ্যাস শেল ফাটানো শুরু করতেই পুলিশের ওপরে পাহাড় আর জঙ্গলের মধ্যে থেকে অসংখ্য মোর্চা সমর্থক ইঁট ছুড়তে শুরু করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।

কয়েক ঘন্টার খন্ডযুদ্ধের পরে ওই খানে আটকিয়ে থাকা সাংবাদিকরা বেরিয়ে আসতে পারেন।

তখনই দেখা যায় প্রচুর পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে রাস্তায়, ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ইঁট-পাথর, ভাঙা কাচের বোতল। রয়েছে রক্তের দাগও।

সেনা সদস্যরা মাইকে ঘোষণা করতে থাকেন যে তারা এলাকার দখল নিয়েছেন। সবাইকে ঘরে থাকতে আবেদন জানানো হয়।
খন্ডযুদ্ধের কিছুক্ষণ পরে মোর্চা দাবি করে যে তাদের দুই সদস্য পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছেন।

তাঁদের মৃতদেহের ছবিও সংবাদমাধ্যমের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে আরও দুজন নিহত হয়েছে বলে দারি করছে মোর্চা।

সকালের হিংসাত্মক ঘটনায় ১৯ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

তবে পুলিশ প্রশাসন প্রথম থেকেই দাবি করছে যে আজ পাহাড়ের কোথাও গুলি চালানো হয় নি। একই কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী – কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে। তিনি এও বলেন যে পাহাড়ে কারও মারা যাওয়ার খবরও সঠিক নয়।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিক্ষোভের মধ্যেই পাহাড়ে জনজাতিগুলির জন্য যে ১৫টি উন্নয়ন বোর্ড তৈরী হয়েছে, তাদের প্রধানদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক বৈঠকে বসেছিলেন।

মিজ ব্যানার্জী জানান, “গণতন্ত্রে আলোচনা সকলের সঙ্গেই করা যেতে পারে – এটাই নিয়ম। তবে তার জন্য তো গণতন্ত্রে পথে ফিরে আসতে হবে, শান্তির পথে আসতে হবে, তবেই আলোচনা করতে পারি। আমার যদি কাউকে খারাপ লাগে, তার সঙ্গেও আলোচনায় বসতে রাজি আমি, কিন্তু প্রথমে তো গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরী করতে হবে।”

উন্নয়ন বোর্ডের প্রধানরাও দার্জিলিং পাহাড়ে শান্তির আবেদন জানান।

তবে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং কোনও অজ্ঞাত স্থান থেকে জারি করা এক ভিডিও বার্তায় প্রতিরোধ আন্দোলন আরও তীব্র করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর পরে আরও দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করে মোর্চা।

বিমল গুরুংয়ের এই বার্তার পরে বিকেলে পাহাড়ের পাদদেশ ডুয়ার্সেও অশান্তি ছড়িয়েছে – জ্বালানো হয়েছে সরকারী বাহন। ডুয়ার্স এলাকায় আগামীকাল ১২ ঘন্টার বনধ ডাকা হয়েছে সেখানে।

দার্জিলিং ও কালিম্পং – এই দুই পাহাড়ী জেলায় অনির্দিষ্টকালীন বনধ চলছেই। -বিবিসি