ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:২১ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২৪শে মে ২০১৮ ইং

দাম্পত্যে যৌন সমস্যায় করনীয়ঃ

দাম্পত্য সম্পর্ক ভালোবাসা, রোমান্টিকতা, বন্ধুত্ব, স্নেহময়তা ইত্যাদি নানা কিছুর বুনোটে তৈরি হবে এমনটাই প্রত্যাশিত। তবে সবকিছুর সঙ্গে এ সম্পর্কের অন্যতম মাধুর্যমণ্ডিত, সুন্দর ও অনন্য বিষয়টি কিন্তু নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক। শরীরী প্রেম দাম্পত্যের কেন্দ্রবিন্দু। শুধু জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্যই নয়, ভালোবাসা ও মমতায় জড়িয়ে পড়া দুজন নারী-পুরুষের পারস্পরিক আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশের জন্য ‘শরীর’ এক অনবদ্য মাধ্যমও বটে। যৌনতা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যত সহজ, খোলামেলা সম্পর্ক থাকবে ততই এই সম্পর্ক বিকশিত হবে।

যৌন সমস্যা দাম্পত্যে ফাটল ধরায়। সমস্যার চরিত্র অনুযায়ী সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়া উচিত। যৌন সমস্যা নিয়ে চিকিত্‍সক বা কাউন্সেলরের দ্বারস্থ হওয়ার কথা এখনো বেশিরভাগ দম্পতিরই অজানা। ফলে শোবার ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে তৈরি হয় এক ধরনের তিক্ত, প্রেমহীন পরিবেশ। এই তিক্ততাকে সঙ্গী করেই জীবন কাটিয়ে দেন বেশিরভাগ দম্পতি। এমনটি করবেন না মোটেও।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিজি হাসপাতাল) ডি ব্লকের ১২ তলায় প্রতি সোমবায বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘সেক্স ক্লিনিক’ চালু রয়েছে। পরামর্শের জন্য সেখানে যেতে পারেন অথবা ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের কাছে যেতে পারেন।

স্বামীর জন্য

-সুস্থ যৌন সম্পর্কের জন্য যে জিনিসটা প্রথমেই প্রয়োজন তা হলো মানসিক বোঝাপড়া। যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এতে প্রাথমিক জড়তাটুকু সহজেই কেটে যাবে।
-দুজনের যৌনচাহিদা ভিন্ন হতেই পারে, তাই বলে নিজের ইচ্ছেটা গায়ের জোরে স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেবেন না। তিনি অস্বস্তি বোধ করেন এমন কিছু করতে বাধ্য করবেন না।
-নিজেদের যৌনজীবন শুধুমাত্র বিছানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। নিজেদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলুন। দাম্পত্যসুখের সঙ্গে কিন্তু যৌনতা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত।
-নিজের যৌনসমস্যার কথা স্ত্রীকে জানান এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিন। ব্যাপারটা জেনেবুঝে চুপ করে থাকা বা স্ত্রীর ওপর মিথ্যা দোষারোপ করবেন না।

স্ত্রীর জন্য

-যৌনসম্পর্ক সম্বন্ধে অপ্রয়োজনীয় লজ্জা, কুণ্ঠা রাখবেন না। আপনার পছন্দ-অপছন্দ স্বামীকে জানান। স্বামীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা বাড়ান। মনে রাখবেন যৌনতা ভালোবাসা প্রকাশেরই অন্যতম মাধ্যম।
-কোনো ধরনের অসুস্থতা বোধ করলে স্বামীর সঙ্গে চিকিত্‍সকের কাছে যান। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং করাতে পারেন। -স্বামীর কোনো যৌন অসুস্থতা থাকলে তার পাশে দাঁড়ান, সব রকম সাহায্য করুন। সুস্থ যৌনজীবনের জন্য -নিজেদের যৌনজীবনে যদি কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তা সমাধানের প্রথম শর্ত হলো, ব্যাপারটা নিজেদের মধ্যে রাখুন। পরিবার বা বন্ধুবান্ধব কারো কাছে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। ডাক্তারি পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলাটাই এসময়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
-নিজেদের সব ঝগড়া, মনোমালিন্য ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়াবার সময় এটাই। নিজের সমস্যা থাকলে হীনম্মন্যতায় না ভুগে শর্তহীন সমর্থন চান সঙ্গীর কাছ থেকে।
-আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন। নিজে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য বা সাহস বাড়াবার জন্য নিজের মনোবল অটুট রাখা খুব জরুরি।
-একে অপরকে শুধু ‘সেক্স অবজেক্ট’ ভাববেন না। সহবাস জরুরি নিশ্চয়ই, কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখতে এবং ভালোবাসার উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে আদর করে জড়িয়ে ধরা, ছোট্ট করে চুমু খাওয়া বা শুধুই হাত ধরে বসে থাকেও নিঃশব্দে অনেক কথা বলা যায়। একে অপরের সঙ্গে বেশি করে সময় কাটান। স্বামী বা স্ত্রীর অক্ষমতা নিয়ে কথা বলা মানে নিজেকেই ছোট করা।
-বেশি সময় একা না কাটিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন যাতে দুশ্চিন্তা মাথায় বাসা বাঁধতে না পারে। -অক্ষমতা নিয়ে যদি কোনো একজনের ব্যবহারে নেতিবাচক পরিবর্তন আসে তাহলে ম্যারেজ কাউন্সেলরের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন