ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৩৭ ঢাকা, সোমবার  ২০শে আগস্ট ২০১৮ ইং

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স , পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ ।

দাফনের মুহূর্তে হঠাৎ নড়ে উঠলেন

চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। কান্নাকাটি আর আহাজারির মধ্য দিয়ে গোসল, কাফন ও জানাজা শেষে চলে দাফনের আয়োজন। ঠিক এমন সময় হঠাৎ নড়ে উঠলেন মাসুম মিয়া (৩৫)। অবিশ্বাস্য এ ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার শুকিয়া গ্রামে।

গত ২০ অক্টোবর মাসুম মোটরসাইকেলে করে পাকুন্দিয়া থেকে কিশোরগঞ্জে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন তিনি। প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিক ঢাকায় রেফার্ড করেন। মাসুমকে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ১৪ দিন রাখার পর অবস্থার অবনতি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ করে দেয়। পরিবারের লোকজন তাকে বাঁচানোর কোনো আশা নেই জেনে রবিবার বিকেলে নিজ বাড়ি পাকুন্দিয়ায় ফিরিয়ে আনে। এ সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় আবার পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শেষ চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শহীদুল ইসলাম রোগীকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর সংবাদে স্বজনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। পরে বাড়িতে নিয়ে লাশের গোসল, কাফন ও জানাজা শেষে দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দাফন করানোর সময় হঠাৎ লাশ নড়ে ওঠে। লাশকে নড়তে দেখে ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে অনেকে। এ সময় নাসিম মিয়া নামে এক ব্যক্তি লাশের মুখ খুলে দেখেন সত্যিই মাসুম জীবিত। এমনকি তিনি পানির জন্য হাহাকার করছেন। লোকজন তাড়াতাড়ি করে তাকে পানি পান করতে দেয়।

এরপর বাড়িতে নিয়ে গেলে আশপাশের কয়েক ইউনিয়নের হাজারও মানুষ তাকে দেখতে রবিবার মধ্যরাত ও সোমবার বিকাল পর্যন্ত ভিড় জমায়। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভাল থাকার পর হঠাৎ সন্ধ্যায় মাসুমের অবস্থার অবনতি হয়। এরপর নিজ বাড়িতেই মারা যান তিনি।

মাসুমের বাবা আমীর হোসেন জানান, রবিবার রাত ও সোমবার সারাদিন মাসুম খাওয়া-দাওয়া করে। সবার সঙ্গে কম-বেশি কথাও বলেছে। কিন্তু সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা বলে চিৎকারের কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।