ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:১৯ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

দানবের সাথে কোন আপোস নয়: প্রধানমন্ত্রী

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

pm12-2-1প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার সাম্প্রতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গি কর্মকান্ডের হোতাদের সঙ্গে কোন আপোস করবে না। কারণ মানুষ কখনো দানবের কাছে হারতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দানবদের প্রতিহত করে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনব ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশে জঙ্গিদের কোন ঠাঁই নেই।
তিনি আজ এখানে সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমীর ইয়াদ আলী প্যারেড মাঠে বাংলাদেশ আনসার ও ভিলেজ ডিফেন্স পার্টির (ভিডিপি) ৩৫তম জাতীয় সমাবেশে ভাষণকালে একথা বলেন।
এ উপলক্ষে প্যারেড কমান্ডার ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে আনসার-ভিডিপি’র বিভিন্ন বাহিনীর এক মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন আনসার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ নাজিম উদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বীরত্ব ও পেশাগত উৎকর্ষের জন্য আনসার ও ভিডিপির ৯৭জন সদস্যকে পদক ও চেক প্রদান করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দুর্বৃত্তরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-পূর্ব স্টাইলে আবারো মানুষ হত্যা শুরু করেছে। রাজনীতির নামে তারা বাস-ট্রাক পোড়াচ্ছে ও জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারছে। তাদের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে প্রায় ১শ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ও কয়েকশ’ আহত হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিট পেট্রোলবোমায় আহতদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন- যারা অকারণে সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে মারছে, তারা কি মানুষ না দানব? এটা কি রাজনীতি? বিএনপি-জামায়াত জোট যা করছে তা জঙ্গি কার্যকলাপ। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ।
তিনি বলেন, পেট্রোলবোমা হামলায় আক্রান্তদের সকলে শ্রমজীবী নিরপরাধ মানুষ। তারা বাস-ট্রাকের ড্রাইভার, হেলপার ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। খালেদা জিয়ার কাছে এসব মানুষের কোন মূল্য নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। এ জন্য সরকার মহাসড়ক ও রেলপথে নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র পাশাপাশি আনসার বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করছে।
প্রধানমন্ত্রী গত বছরের সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি-জামায়াত জোটের নজিরবিহীন নাশকতা প্রতিহত করে বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পদ রক্ষায় আনসার বাহিনীর সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, রেলওয়েকে রক্ষা করতে আনসার বাহিনী মোতায়েনের পর ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক কমে যায়। এই বাহিনীর সদস্যরা সে সময় দেশপ্রেম ও সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রতিক নাশকতা রোধে রেলপথের ১ হাজার ৪১ পয়েন্টে ৮ হাজার ৩২৮ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন মহাসড়কেও ১২ জন করে ৯৯৩ পয়েন্টে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বিএনপি-জামায়াত দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে।
তিনি বলেন, বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ৭ বছর পর সৌদি আরব আবার বাংলাদেশ থেকে অত্যন্ত কম খরচে কর্মী নেয়া শুরু করছে। মালয়েশিয়ায়ও আমাদের কর্মীরা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দারিদ্র্যের হার ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয় ১১৯০ ডলার ও প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ১.৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে। আর বিএনপি-জামায়াত ধ্বংসযজ্ঞে মেতে ওঠে সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ধর্মের কথা বলে। কিন্তু মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জন্ম-ওফাত দিবস মিলাদুন্নবীর দিন ও বিশ্ব ইজতেমার সময়ও হরতাল-অবরোধ দিয়েছে। তারা ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবনও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তারা বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপির সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে এই বাহিনীর বহু সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর ৬৭০ সদস্য শহীদ হন। এই বাহিনী তাদের ৪০ হাজার অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে বিতরণ করেন।
শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশে মেহেরপুরে প্রবাসী সরকারকে ১২ জন আনসার সদস্যের গার্ড অব অনার প্রদানের কথা স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের পর সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপিকে সময়োপযোগী করে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে বিজিবি, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার এই সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য আনসারের বিভিন্ন অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বর্তমান কাজ শেষ হলে এই বাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আরো সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনজীবন ও তাদের সম্পত্তির নিরাপত্তায় আনসারদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে তাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই বাহিনী সর্বোচ্চ সততা, সাহসিকতা ও আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ২০২১ সালের মধ্যে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, নিরক্ষরমুক্ত, প্রযুক্তিভিত্তিক মধ্যম আয়ের দেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কোন বাধাই আমাদের কাজ বন্ধ করাতে পারবে না ইনশাল্লাহ।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আনসার বাহিনীকে জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়। ব্যাটালিয়ন আনসারের চাকরি ১৫ বছরের আগেই স্থায়ী করা হয়। এখন পর্যায়ক্রমে ১২ থেকে ৯ বছরে কমিয়ে আনা হয়েছে। সরকার এই সময় আরো কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার সদস্যদের তাদের মোট বেতনের ৩০ ভাগ হারে ঝুঁকি ভাতা দেয়া হচ্ছে। কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলে ৫ লাখ টাকা এবং মারাত্মক আহত হলে ২ লাখ টাকা করে দেয়া হচ্ছে। আনসার সদস্যদের টাইম স্কেল দেয়া হচ্ছে। বছরে দু’টি ইনক্রিমেন্ট এবং রেশন ভাতা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন আনসার ব্যাটালিয়ন গঠনের উল্লেখ করে বলেন, পিসি/এপিসি সদস্যদের র‌্যাংক ও ব্যাজ অন্যান্য বাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে। আনসার ব্যাটালিয়নের সকল সদস্য আধুনিক অস্ত্র পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে অস্থায়ীদের মহার্ঘ্য ভাতা দেয়ার কোন সুযোগ ছিল না। তবে তাঁর সরকার ব্যাটালিয়ন আনসার, বিশেষ আনসার, পার্বত্য আনসার এবং ইমবোডিমেন্ট আনসারের সকলকে এই ভাতা প্রদানে পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ৬৭২ জন নারী আনসারের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে এবং সকল আনসার সদস্যকে স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দেয়া হবে। মৃত্যুর পর তারা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পাবে। তিনি বলেন, তাদের কল্যাণের জন্য আনসার-ভিডিপি ব্যাংক করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার ও ভিডিপি বাহিনী নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের প্রায় অর্ধেক নারী।
প্রধানমন্ত্রী পরে আনসার-ভিডিপি দরবারে ভাষণে বলেন, সরকার দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও আনসার ও ভিডিপিদের নিযুক্ত করেছে।
তিনি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের শনাক্ত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেয়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতেও তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আনসার ভিডিপি সদস্যদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং আনসার ভিডিপি সদস্যদের তৈরি কুটির শিল্পজাত পণ্যের স্টল পরিদর্শন করেন।