ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৩০ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

দানবের সঙ্গে মানবের কোন সংলাপ হতে পারে না

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেছেন, দানবের সঙ্গে মানবের কোন সংলাপ হতে পারে না। সন্ত্রাসীদের সাথে কিসের সংলাপ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যারা হরতাল-অবরোধের নামে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, এদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চায় তাদের সাথে কোন সংলাপ নয়।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী আজ মঙ্গলবার জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রতোল ইউনিয়নের ঝাড়বিশলা গ্রামে ঝাড়বিশলা হায়াতুল উলুম আরীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে মধ্যযুগের সাধক কবি কাজী হেয়াত মামুদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
রংপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এমপি, ডাক্তার ইউনুস আলী সরকার এমপি, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত।
বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি ছায়াদৎ হোসেন বকুল, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহারুল হক বাবলু, সম্পাদক তাজিমুল ইসলাম শামীম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোনায়েম সরকার মানু, কবি পরিবারের অষ্টম পিঁড়ির বংশধর শর্মিলী আকতার, ঝাড়বিশলা হায়াতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস ছালেক সরকার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুল হক প্রমুখ।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম জিয়াউল ইসলাম। আলোচনা সভায় কবির জীবনী ও সাহিত্য নিয়ে মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন রংপুর সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আতাহার আলী খান ও বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক এ্যাডভোকেট এম এ বাশার টিপু।
শাজাহান খান বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে জামায়াত-বিএনপিসহ ২০দলীয় জোট অহিংস আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন সহিংস আন্দোলন করছে। নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে নির্বাচনকে ঠেকাতে পারেনি। তখনও তারা যানবাহনে আগুন দিয়ে নারী, শিশুসহ নিরীহ মানুষ কে পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের সেই সন্ত্রাসকে ঠেকিয়ে জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় বসিয়েছে।
এ সরকারের উন্নয়ন সাফল্যে তাদের গায়ে জ্বালা ধরে গেছে উল্লেখ কওে তিনি বলেন,তাই তারা আবারো হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। বার্ণ ইউনিটে মানুষের আহাজারী তাদের কানে যায় না।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়া হরতাল দিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করতে চান। হরতাল ডেকে তারা মাঠে থাকেন না। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষ হত্যা করা এবং পরীক্ষার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। বেগম জিয়া জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে হরতাল-অবরোধের নামে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে তারা এদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চায়।
তিনি বলেন, তাদের এ স্বপ্ন কোনদিন পূরণ হবে না, বাংলার মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করতে হবে। তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সকলকে একযোগে কাজ এবং জামায়াত বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করার আহ্বান জানান।
এর আগে ঢাকা থেকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে দুপুরে পীরগঞ্জের ঝাড়বিশলা ঈদগাহ মাঠে অবতরণ করে প্রথমেই কবির মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হামদ-নাত ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাদ আসর মাদ্রাসা মাঠে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
১৬৮০ থেকে ১৬৯০ খ্রীষ্টাব্দের কোন এক সনে ঝাড়বিশলা গ্রামে কবি কাজী হেয়াত মামুদ জন্মগ্রহন করেন এবং ১৭৬০ থেকে ১৭৬৫ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে কোন এক সনের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারী তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার পিতার নাম শাহ কবির ও মাতার নাম খায়রুন নেসা।