Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:২৯ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, ফাইল ফটো

দখল করা জায়গায় নামাজ পড়া কি সোয়াবের কাজ?

নদী দখলের জন্য মসজিদ তৈরী করা প্রসঙ্গে আলেম সমাজের কাছে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের প্রশ্নঃ ‘দখল করা জায়গায় নামাজ পড়া কি সোয়াবের কাজ ?

মন্ত্রী বলেন, একটি সমস্যা হচ্ছে নদী দখলের জন্য মসজিদ তৈরী করা হয়। তার পাশে আবার যারা নদী দখল করে তারা নিজেদের বাড়ী তৈরী করে। এদের কিছু বলা যায় না । কারণ প্রতিক্রিয়ায় হেফাজতের হুজুর কিছু বলে বসবেন। দেশের নদীগুলোর দু’পার দখল করে ৪০টি মসজিদ তৈরী করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা দখল করে সেখানে মসজিদ তৈরী করা হয়েছে। আমি নামাজ পড়ি। আমি মুসলমান। আমি আলেম সমাজের কাছে প্রশ্ন রাখি দখল করা জায়গায় নামাজ পড়া কি সোয়াবের কাজ ?

মন্ত্রী আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘বেপরোয়া দখলে বিপর্যস্ত আদি বুড়িগঙ্গা নদী ও এর ভবিষ্যত’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপণ করেন বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল। গোলটেবিল বৈঠকে নদী রক্ষায় সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিআইডব্লিউটি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম।

বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ. বাংলাদেশ স্থপতি ইনিষ্টটিউটের সাবেক সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।

তিনি বলেন, নদীর প্রাণ আছে। এ নদীকে যারা দূষণ ও দখল করে তারা দেশের শত্রু। নদীকে যারা হত্যা করছে তারাও এক ধরনের রাজাকার। তারাও একই দোষে দোষী। এ নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

শাজাহান খান বলেন, কল-কারখানার বর্জ্যরে ১শ ভাগের মধ্যে ৬০ ভাগই নদীকে দূষণ করছে। এর মধ্যে বেশীর ভাগই ট্যানারি। এ কারণে দূষণের উৎস মুখগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। গাবতলীতে স্থাপনা সরিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ওয়াকওয়ে ও বনায়ন করা হয়েছে। অথচ সেখানে ব্যবসায়ীরা ইট-বালু ফেলে।

তিনি বলেন, সদরঘাট ও কাচপুরের নদীর দুদিকের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বনায়ন করা হয়েছে। সদরঘাটকে হকারমুক্ত করেছি। বহুবছর পর বড়াল নদীর উপর নির্মিত বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছি।এখন বড়াল নদীর আশেপাশে নদীতে ও পানির স্রোত বেড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নদীর সীমানা পিলার নিয়ে সমস্যা রয়েছে। পুনরায় জরিপ চালানো হচ্ছে। তারপর সীমানা পিলার করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকায় ৪৬টি ছোট বড় খাল রয়েছে। এ খালগুলে দখলমুক্ত করবো। ইতো মধ্যে দুটো খাল দখল মুক্ত করা হয়েছে।