অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মুস্তফা কামাল
অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মুস্তফা কামাল

দক্ষিণ এশিয়ায় ভাল বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বাংলাদেশে : অর্থমন্ত্রী

বিনিয়োগ উপযোগি পরিবেশের সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানী, তথ্যপ্রযুক্তি, পেট্রোকেমিক্যাল, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পসহ অন্যান্য খাতে সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভাল বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বাংলাদেশে এবং অত্যন্ত আকর্যনীয় প্রণোদনার সুযোগ রয়েছে। পাশপাশি প্রতিযোগিতামূলক দক্ষ জনশক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে স্বল্প ব্যয় ও শুল্ক-কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকারের সুযোগ রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীরা এই সুবিধা গ্রহণ করে অধিক মুনাফা করতে পারেন।’

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের নিজ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ এইচ এম আল মুতাইরির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন,ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগ,বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিংয়ের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ টেকসই করতে ১’শটি অর্থনৈতিক জোন তোলা হচ্ছে।

তিনি জানান,সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুই হাজার একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে,যা বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক ব্যবহার করতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, দুটি দেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। বাংলাদেশ গত দশ বছর ধরে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আগামী অর্থবছর ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন,বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সৌদিতে প্রচুর পরিমানে মানুষ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে গমন করে। কেবল এ বছরেই ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হয়েছে ৮৩০০,ওমরা ভিসা ৮০,০০০ এবং ১,২৮,০০০ হজ্জ ভিসা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সর্ম্প আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আগামী ৭ মার্চ সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সেদেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করার কথা রয়েছে।