ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৩৬ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আনিসুল হক
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, ফাইল ফটো

‘ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ভঙ্গ করেছে পাকিস্তান’- আইন মন্ত্রী

আইন মন্ত্রী আনিসুল হক অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান বিহারী নামে পরিচিত আটকে পড়া অবাঙ্গালীদেরকে ফিরিয়ে না নিয়ে ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান ১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ি বাংলাদেশ থেকে আটকে পড়া বিহারীদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য ছিল। অথচ দশকের পর দশকেও তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। আইনমন্ত্রী ঢাকা, দিল্লী এবং ইসলামাবাদের যৌথ স্বাক্ষরিত চুক্তি সম্পর্কে বাসসকে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ি পরাজিত পাকিস্তানী সৈন্যদের দেশে ফিরে যাবার অনুমতি দিয়েছে এবং পাকিস্তানী সৈন্যদের পক্ষ নিয়ে নৃশংসভাবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারীদের বিচার সম্পন্ন করে কোন দিক থেকেই চুক্তি লঙ্ঘন করেনি।

আইন মন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ি কোন পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে তখন চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। পাকিস্তান দশকের পর দশক ধরে আটকে পড়া বিহারীদের ফিরিয়ে না নিয়ে চুক্তি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে আগত হাজার হাজার উর্ধু ভাষী মুসলিম ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশে অস্থায়ী বিহারী ক্যাম্পে অবস্থান করছে। তারা দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। অথচ ইসলামাবাদে সবগুলো সরকার তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করছে।

যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পর্কে ইসলামাবদের অতিসাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

ঢাকা দেশের নাগরিকদের মধ্যে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকেই ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করেছে যে, বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির আলোকে বিচার প্রক্রিয়া না চালানোর অঙ্গীকার সমুন্নত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার পর ইসলামাবাদ সর্বশেষ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, ১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ক্ষমার পদক্ষেপ হিসেবে বিচার না করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এই ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়ে একটি নিন্দা প্রস্তাবও গ্রহন করেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নিজামীর একমাত্র অপরাধ ছিল পাকিস্তানের সংবিধান ও আইন সমুন্নত রাখা।

এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম র আলাপকালে বলেছেন, ইসলামাবাদের বিবৃতি আবারো প্রমান করেছে যে, নিজামী ছিলেন তাদেরই (পাকিস্তানীদের) একজন। তাদের যখন তার ব্যাপারে এতোই উদ্বেগ ছিল, তারা নাগরিক হিসাবে নিজামীকে পাকিস্তানে নিয়ে গেলেই পারতো।

তিনি বলেন, ইসলামাবাদের বিবৃতিতে সুস্পষ্ট হয়েছে যে, মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের পর পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগি ইউনিট হিসেবে কুখ্যাত আল বদর বাহিনীর প্রধান হয়ে নিজামী একজন ‘বিশ্বাসঘাতক’ হয়েছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা’ দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে বলেন, ১৯৭৪ সালের চুক্তিতে কোথাও বলা হয়নি যে, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের পক্ষ নিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারী তার নাগরিকদের বিচার করতে পারবে না। বাসস