ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:২৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

কাদের সিদ্দিকী
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম, ফাইল ফটো

‘ত্রাণমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার দাবি কাদের সিদ্দিকীর’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার অপসারণ চান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধকারীদের স্বীকৃতির পাশাপাশি তাদের জন্য ভাতাও দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।

উত্তরবঙ্গে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে দলের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, বন্যা মোকাবেলায় দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী ব্যর্থ। এখনই তাকে বরখাস্ত করার দাবি জানাচ্ছি, নয়তো তাকে পদত্যাগ করতে হবে। কেননা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রানমন্ত্রী সম্পুর্ণ ব্যর্থ। বন্যা দূর্গত এলাকায় একটা মানুষের কাছও তিনি ত্রাণ পৌঁছাতে পারেননি।

কাদের সিদ্দিকী দাবি করেন, সরকারের নিয়ম অনুসারে যে পরিমাণ ত্রান সামগ্রী চেয়ারম্যানের কাছে গেছে, সেটা চেয়ারম্যান, মেম্বারের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে গেছে। তাই আমি সরকারের কাছে দাবি করব, এই ব্যর্থ ত্রাণমন্ত্রী যিনি, আইনের কাছে অপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত তাকে আর সরকারে রাখার দরকার নেই। তাকে বরখাস্ত করা হোক। তা না হলে তিনি নিজেই পদত্যাগ করুন। নয়তো এ ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতে হবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বলেন, যেভাবেই বলি দেশ অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দল গঠনের পর থেকে কোন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এ রকম খারাপ সময় আর আসেনি। সরকারের সুসময় হতে পারে কিন্তু দলের সাংগঠনিক অবস্থা খুব খারাপ। বলা যায় চর দখলের মত দল দখল হয়ে গেছে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, গত ১৬ তারিখ প্রধানমন্ত্রী তার জীবনের সবচেয়ে ভারাক্রান্ত মনে তার পিতা, মাতা ও ৭৫ এর ১৫ আগস্টের অন্যান্য নিহতদের কথা তুলে ধরেন। কিন্তু যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জীবন দিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তুলে ধরেছিল। তাদের কথাটা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাদ পড়ে গেছে।

ওইদিন প্রতিরোধ গড়ে না তুললে আওয়ামী লীগ মাটির নিচে চাপা পড়ে যেত মন্তব্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ৭৫-এর পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলার মত লোকের অভাব ছিল। তার মৃত্যুতে অনেকে দাঁত বের করে হেসেছে। আমরা যারা প্রতিবাদ করেছিলাম তাদের অনেকে বিচারের নামে অবিচারের স্বীকার হয়েছেন। মোশতাক, জিয়া, এরশাদ সরকার অনেকের প্রতি অনেক অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার করেছে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধকারীরা স্বীকৃতি পাবে কিনা জানতে চাই। আর মুক্তিযোদ্ধাদের দশ হাজার টাকার স্থলে ৫০ হাজার টাকা ও যারা ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তাদের জন্য ৪৯ হাজার টাকা ভাতার দাবি করছি। যে এলাকা প্রতিরোধ যোদ্ধারা দখল করে নিয়েছিলেন সেখানকার অধিবাসীদের দখলকৃত জায়গা ফেরত দেয়ার দাবিও জানান তিনি।