ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৪৪ ঢাকা, শুক্রবার  ২০শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

তোবা গ্রুপের মিশুর সাথে জার্মান সাংবাদিকের ফোনালাপ ফাঁস

৬ আগস্ট গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুর সঙ্গে থমাস নামে এক জার্মান সাংবাদিকের ফোনালাপ হয় তোবা গ্রুপের গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে । এই ফোনালাপের অডিও গোপনে ধারণ করে তা দ্রুত ইউটিউবে ছড়িয়ে দিয়েছে কোনো একটি পক্ষ। তাতে এই ফোনালাপটিকে রাষ্ট্রবিরোধী ও পোশাক খাতের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক বলেও উল্লেখ করা হয়। বাংলার চোখের পাঠকদের জন্য ফোনালাপের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো নিচে :

থমাস : মোশরেফা মিশু বলছেন? আমি ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে থমাস। হাই মিশু, আপনি কেমন আছেন? শুনলাম আপনি অসুস্থ।

মিশু : হ্যাঁ, আপনি কেমন? আমরা অনশনে আছি। আজকে নবম দিন চলছে।

থমাস : অনশন করছে কতজন?

মিশু : সব মিলিয়ে ১৬০০। এর মধ্যে ১৩০০ নারী আর ৩০০ পুরুষ কর্মী। তিন মাসের বেতন, এক মাসের ওভারটাইম আর ঈদ বোনাসের জন্য তাদের সঙ্গে আমাদের সংগঠন অনশন করছে।

থমাস : অর্থাৎ তোবা গ্রুপের কাছে আপনাদের বিশেষ দাবি রয়েছে। এখন পরিস্থিতি কেমন?

মিশু : এখন পরিস্থিতিটা বেশ মজার। সব বাম দল, সব উদারপন্থী বাম গণতান্ত্রিক দল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন আমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। ঢাবিতেও শিক্ষকরা প্রতীকী অনশন করেছেন। এই ফাঁকে আমরা তোবা গ্রুপ ওয়ার্কার্স অ্যাকশন কমিটি নামে একটি সংগঠনও গড়ে তুলেছি। এরই মধ্যে সব ছাত্র ও নারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো যেমন- জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও খুশী কবিরের মতো মানুষেরাও আমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। বস্তুত, সকল দেশপ্রেমী ও গণতান্ত্রিক মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। এখন মানুষগুলো সব একতাবদ্ধ। সরকার ও বিজিএমইএকে এখন গোটা জাতি এখন ঘৃণার চোখে দেখছে। নয় দিন ধরে অনশনে আছি আমরা, এখনো তারা কর্মীদের বেতন দেয়নি। আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছি, আমার নিজের রক্তচাপ এখন ১৭০ বাই ১২০। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের বেশির ভাগই নারী। তাদের স্যালাইন ও ভিটামিন দিচ্ছি। প্রথম দিন থেকেই আমরা মেডিক্যাল টিম গঠন করেছি। আমার সহপাঠী ডাক্তাররাও সাহায্য করছে। লোকের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এই প্রথম পোশাকশ্রমিকরা এত কঠিনভাবে একতাবদ্ধ হয়েছে। কয়েক মিনিট আগেও ১০টি পোশাক কারখানার কর্মীরা আমাদের কাছে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। তারা বাড্ডা ও গুলশান এলাকা থেকে এসেছে।

থমাস : এখন আপনি কোথায়? কারখানা ভবনে?

মিশু : হ্যাঁ, তোবা গ্রুপের ১২ তলা ভবনের ৮ তলায় আছি।

থমাস : বিজিএমইএর সঙ্গে কি আপস করছেন? নাকি করছেন না?

মিশু : অনশনের আগে তোবা গ্রুপ ও বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকে আমরা জানিয়েছিলাম। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বেতন-বোনাস দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। শ্রম প্রতিমন্ত্রী, বিজিএমইএ ও তোবা গ্রুপের সঙ্গে আলাপ করেছি। কিন্তু তারা পাত্তা দেয়নি। তাই ঈদের আগের দিন আমরা অনশনে যেতে বাধ্য হয়েছি। এই শ্রমিকরা বিশ্বকাপে জার্মানি, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জন্য জার্সি তৈরি করেছিল। আমি খুব খুশি যে আপনি আমাকে কল করেছেন। এখন এই খবর যদি জার্মানি থেকে ইউরোপীয়দের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন যে, বিশ্বকাপটা কোটি কোটি দর্শক উপভোগ করলেও এ কর্মীরা তাদের মজুরি পায়নি। এটা নৃশংস-অমানবিক।

থমাস : জার্মান কোম্পানিগুলোর নাম জানেন?

 

মিশু : হ্যাঁ, আমি জানি কোম্পানিগুলোর নাম।

থমাস : কোম্পানির নামগুলো আপনি আমাকে মেইল করতে পারেন।

মিশু : এখানে ইন্টারনেট নেই। তবে আমি নাম বলতে পারি- ওডব্লিউআইএম।

থমাস : আপনি এসএমএস করে পাঠাতে পারেন।

মিশু : আপনি আপনার ইমেইল ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর পাঠিয়ে দিন। আর এই খবর ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে দিন।

থমাস : আমি করব। এটাকে ইন্টারভিউ হিসেবে ছাপব।

মিশু : এখানে চারটা শ্রমিক ইউনিয়ন আছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এগোলোকে পাত্তা দেয় না। আপনি এটাও উল্লেখ করবেন যে, রানা প্লাজা ও তাজরীনের ঘটনার পর বিজিএমইএ বলেছিল গার্মেন্টস কারখানার কর্মীদের অবস্থা বেশ ভালো, তাদের নিয়মিত বেতন দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু আদতে এসব সত্য নয়।