ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:০১ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

তুষার ঝড়ে অচল নিউইয়র্ক

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতা আমাদেরকে অনুপ্রানিত করবে।

 

তুষার ঝড় জুনোর আঘাতে অচল হয়ে পড়েছে নিউইয়র্ক। সোমবার স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঝড়ে নিউইয়র্ক রীতিমতো ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। চব্বিশ ঘন্টা জেগে থাকা শহরটির ট্রেন স্টেশন, রাস্তা সবই ফাঁকা হয়ে পড়ে। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে কেউ পা রাখছেন না।
নির্জীব গ্রান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে বসে আছেন জোসেফ বার্কে নামের এক আইনজীবী। শহরতলিতে বাস করা এ আইনজীবী বলছেন, আমি সাধারণত ছয়টা সাড়ে ছয়টায় বাড়ি ফিরি। কিন্তু আজ অনেক আগেই ফিরে যাচ্ছি।
যাত্রীর আসা যাওয়ায় সাধারণত মুখর থাকে গ্রান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় টার্মিনালকে মনে হয়েছে মৃতপ্রায়। এছাড়া ম্যানহাটনের ব্যস্ত এলাকা ইউনিয়ন স্কোয়ারের আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনটিকেও ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে ভয়াবহ এ তুষার ঝড়ের কারণে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষকে ব্যতিক্রমী কিছু নিরাপত্তা পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাত এগারোটা থেকে গণপরিবহণ বন্ধ করা। এছাড়া নিউইয়র্ক রাজ্যের ১৩টি কাউন্টিতে রাস্তায় চলাচল অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও গাছ উপড়ে যাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক করেছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ করে জেএফকে, নিউআর্ক ও লাগোয়ার্দিয়া বিমানবন্দরের সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন অপেরার শো, বাস্কেটবল গেমস এবং আর্ট মিউজিয়াম বন্ধ রাখা হচ্ছে।
নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাসিও এবং গভর্ণর এন্ড্রু কওমোর পরামর্শ মেনে অন্যান্য অনেক বাসিন্দার মতো বার্কে মঙ্গলবার বাড়িতে অবস্থানেরই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে নিউইয়র্কবাসীর ভোগান্তি ছাড়াও ঝড়ের কারণে পর্যটকদের বেড়ানোর পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে। ব্রুকলিন ব্রিজের মতো আকর্ষণীয় পর্যটক স্পটগুলোও এখন জনশূণ্য হয়ে পড়েছে।
ঝড়ের কারণে নিউইয়র্কবাসীকে প্রয়োজনীয় খাবারও মজুদ করতে হয়েছে। শেষ মুহূর্তে গ্রোসারি শপগুলোতে লোকজনের ভিড় দেখা গেছে। তুষারে আটকে যাওয়ার ভয়ে খাবার মজুদে ছিল বেশ হুড়োহুড়ি।
খাবার সংগ্রহে এসে বুটিক শপে কাজ করা রোজা রামিয়েজ বলেন, ‘আমার কোন খাবার নেই। আমার খাবার দরকার। কে জানে কাল আমি বেরুতে পারবো কিনা।’
একজন পাইকারী খাবার বিক্রেতা বলেন, দিনভর দোকানের বাইরে লোকজনের লম্বা লাইন ছিল। খাবার দ্রুতই শেষ হচ্ছিল। আমরা সকলের জন্য যথেষ্ট খাবার মজুদ রেখেছিলাম।
তিনি বলেন, দোকানী ও কর্মচারীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্যে আজ আমরা নির্ধারিত সময়ের তিন ঘন্টা আগেই আটটার মধ্যে দোকান বন্ধ করছি।