শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:০২ ঢাকা, শনিবার  ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

কাঁঠালিয়ার সাংবাদিক বাদল

“তুলে নিয়ে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবো”

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া সিকদারসহ ৯ জনের নামে আদালত এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেয়ার পর থেকে মামলার বাদী নির্যাতিত সাংবাদিক এইচ এম বাদলকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এখনো থানায় এজাহার হয়নি। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বাদল আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

অভিযোগে জানাযায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় বনানীর রেইনট্রি হোটেলের মালিকের বাবা ঝালকাঠি-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার হয়। ওই সংবাদে গত ১৬ মে লাইক দেয়ার অভিযোগে স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক বরিশাল প্রতিদিনের কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রতিনিধি এইচ এম বাদলকে তুলে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার ও তাঁর লোকজন। রাতেই তাকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ২১ মে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন বাদল। আদালতের বিচারক রুবাইয়া আমেনা গত ৩০ মে মামলার শুনানি শেষে কাঁঠালিয়া থানার ওসিকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলার আসামীরা হলেন, কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার, তাঁর সহযোগী মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম, সেলিম হাওলাদার, মো. আনিচ, মনির খান, এনাম কাজী, মিলন মাষ্টার ও মিলন সিকদার। এরা সবাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী। আদালত এজাহার গ্রহনের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মামলা তুলে নিতে বাদলকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি তাঁকে হাসপাতাল থেকে নাম কেটে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন আসামী ও তাদের সহযোগীরা। সাংবাদিক বাদলের গ্রামের বাড়িতে থাকা স্ত্রী ও সন্তান এবং বৃদ্ধ মাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন আসামীরা।

বাদল অভিযোগ করে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকালে কলেজমোড় এলাকার মনির ও শহিদ নামের দুই ব্যাক্তি ৫-৭ জন লোক নিয়ে সদর হাসপাতালে যায়। তারা আমাকে নাম কেটে আদালতে দায়ের করা নালিশি মামলা তুলে বাড়ি চলে যেতে বলে। অন্যথায় আমাকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। আমি বর্তমানে হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আসামীরা যেকোন সময় আমাকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলতে পারে।

এদিকে এখনো এজাহার গ্রহনের নির্দেশ সম্বলিত কাগজপত্র কাঁঠালিয়া থানায় পৌঁছায়নি জানিয়ে থানার ওসি এম এম শওকত আনোয়ার বলেন, এজাহার গ্রহন সম্পর্কিত আদালতের আদেশ এখনো আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। কাগজ পেলে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।