Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:২৫ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘তুরস্কে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৭৮৫০ পুলিশ বরখাস্ত’

তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে দেশের পুলিশ বিভাগে। এই অভিযোগে দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ৭ হাজার ৮৫০ পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তুরস্কের একাধিক গণমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে।

রোববার (১৭ জুলাই) রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়।

বরখাস্ত করা পুলিশ সদস্যদের একটি তালিকা বিভিন্ন প্রদেশের প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছেন দেশটির পুলিশ প্রধান মেহমুদ চেলালেথিন লেকেসিজ।

ওইসব পুলিশ সদস্যদের রাতেই প্রাদেশিক পুলিশ সদর দফতরে ডাকা হয় এবং তাদের অস্ত্র এবং আইডি কার্ড জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা হলেও ওই পুলিশ সদস্যরা দেরি করে মাঠে নামেন। তাদেরকে গুলেনের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে তুরস্কের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে দেশটির সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র অংশ। তারা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের ক্ষমতা দখলের দাবিও করেছিল। সারাদেশে কারফিউ ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু জনগণ গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সেনা সদস্যদের অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দেয়। এরদোগান সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয় দেশটির জনগণ। তারা সেনা সদস্যদের পিটিয়ে পুলিশে তুলে দেয়। সেনাদের ট্যাঙ্ক দখলে নিয়ে তার মাথায় দেশের পতাকা লাগিয়ে উল্লাস করে জনতা।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের দেয়া তথ্য মতে, ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টায় নিহত হয়েছেন ২৬৫ জন। এর মধ্যে অভ্যুত্থানপন্থী বিদ্রোহী রয়েছেন ১০৪ জন। আর অভ্যুত্থান প্রতিরোধ করতে গিয়ে সামরিক-বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন ১৬১ জন।

উল্লেখ্য, তুরস্কের পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের বহিষ্কারাদেশ এবারই প্রথম নয়। গত দুই বছরে তুরস্কের পুলিশ সদস্যদের ওপর এই ধরনের আরও বহিষ্কারাদেশের ঘটনা ঘটেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী দেশটির ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারী ছিলেন বলে অভিযোগ।

গত শুক্রবারের সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টার সঙ্গে গুলেনের অনুসারীরাই মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছেন বলে তুরস্কের সরকার দাবি করেছে।