ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৪৬ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রানা দাশগুপ্ত

‘তুমি দেশে থাকলে ভোটটা আমার, চলে গেলে জমিটা আমার’

বাংলাদেশে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অন্তত তিন গুণ বেড়ে গেছে, এক রিপোর্টে এ অভিযোগ করেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একটি সংগঠন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ। এ প্রসঙ্গে সংখ্যালঘুদের অবস্থা বলতে গিয়ে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘তুমি দেশে থাকলে ভোটটা আমার, চলে গেলে জমিটা আমার’।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের উপস্থাপিত এই রিপোর্টে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লংঘনের পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় এ বছর আরো ভয়াবহ পর্যায়ে গেছে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনের কারণে গত তিন মাসে এসব ঘটনা আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

রিপোর্টে বলা হয়, শুধুমাত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার ২শ’র বেশী ব্যক্তি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মি. দাশগুপ্ত বলেন, ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে অন্য দলগুলোকে তেমন দেখা যাচ্ছে না, আর বিভিন্ন এলাকাতে আওয়ামী লীগের একাধিক ‘বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় রয়েছে।

এতে বলা হয় – ‘গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে সংখ্যালঘুদের ‘একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন’ মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ছিল ১৫৬২টি। এ বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেছে ৯ হাজার ৫৬৬টি।’

এ সব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে।

এসময় ১০ জন নিহত এবং ৩৬৬টি জন আহত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া একাধিক ধর্ষণ, জমিজমা দখল, দেশত্যাগের হুমকির ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়।

মি দাশগুপ্ত বলেন, সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে ‘তুমি দেশে থাকলে ভোটটা আমার, চলে গেলে জমিটা আমার’ এই মানসিকতা কাজ করছে প্রভাবশালীদের মধ্যে।

রিপোর্টে জমিজমা ঘরবাড়ি মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৬ শতাধিক।

তিনি জানান, পত্রপত্রিকা রিপোর্ট এবং নিজস্ব জরিপ – উভয় ধরণের সূত্র থেকেই তারা এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

মি দাশগুপ্ত এ ব্যাপারে বিদেশী একটি গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইউপি নির্বাচনের আগে এই সহিংসতাগুলোর অধিকাংশের সাথেই যুক্ত বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তারা সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থেকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে এগুলো ঘটাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এখনো কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।