ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৫৫ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নির্বাচন কমিশন

তিন সিটি কর্পোরেশনে ভোটাগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে চলছে ভোট গণনা।

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আর উৎসব আমেজে আজ সকাল ৮টা থেকে ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রত্যেকটি কেন্দ্রেই সকাল থেকে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন শুরুর পর কিছু জায়গায় বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাব-পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোট কেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি ভাল ছিল।

বরিশালে প্রার্থীদের ভোট বর্জন বিষয়ে তিনি বলেন, ভোট বর্জন কোন সমাধান নয়। তাদের কোন অভিযোগ থাকলে তারা কমিশনকে লিখিত আকারে জানাতে পারতো। কিন্তু ভোট বর্জন করার কোন যৌক্তিকতা নেই।

বরিশালের প্রার্থীদের ভোট বর্জনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, বরিশালের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখছি। কমিশন সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়, তা-ই জানানো হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার সদস্য কাজ করছেন। ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকে তিন সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি টিম এবং প্রতি দুটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে ১৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরা আগামীকাল পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। আরো ৪ প্লাটুন করে বিজিবি রিজার্ভ রাখা হয়েছে বলেও সচিব জানান।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ন সচিব ফরহাদ আহমেদ খান বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বরিশালের একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনো আর কোন কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের খবর পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ২ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৬ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), বিএনপির মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ মোর্শেদ (হাতী)।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদেক আবদুল্লাহ (নৌকা), বিএনপির মো. মজিবুর রহমান সরোয়ার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ওবায়দুর রহমান মাহবুব (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ (কাস্তে), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মনীষা চক্রবর্তী (মই) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল)।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দীন আহম্মদ কামরান (নৌকা), বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের-বাসদ মো. আবু জাফর (মই) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসান মাহবুব জোবায়ের (টেবিল ঘড়ি), মো. এহসানুল হক তাহের (হরিণ) ও মো. বদরুজ্জামান সেলিম (বাস)। তিন সিটিতে ৫৩০ জন কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজশাহী সিটিতে ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১৩৮টি ভোট কেন্দ্র ও ১ হাজার ২৬টি ভোট কক্ষ রয়েছে। বরিশাল সিটিতে ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১২৩টি ভোট কেন্দ্র ও ৭৫০টি ভোট কক্ষ রয়েছে এবং সিলেট সিটিতে ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১৩৪টি ভোট কেন্দ্র ও ৯২৬টি ভোট কক্ষ রয়েছে।

সচিব জানান, তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বরিশালে ১০টি, রাজশাহীতে দুইটি ও সিলেটে দুইটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে।

রাজশাহী সিটিতে সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বরিশালে মুজিবুর রহমান ও সিলেটে মো. আলিমুজ্জামন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। -বাসস