ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:০১ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৩শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

মকবুল আহমাদ
জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমীর মকবুল আহমাদ

‘তিনি রাজাকার ছিলেন, সত্যতা পাওয়া গেছে’

জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমীর মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তসংস্থা।

সোমবার ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তসংস্থার প্রধান সমন্বয়ক হান্নান খান একথা জানান।

তিনি বলেন, ‘মকবুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়নি। তবে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তিনি যে রাজাকার ছিলেন সে বিষয়টি তথ্য-উপাত্তে স্পষ্ট।’

এক প্রশ্নের জবাবে হান্নান খান বলেন, ‘মকবুলের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও প্রাথমিক তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে কি না সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

জামায়াতের আমীর মকবুল আহমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে। তিনি ফেনী শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-২ (ফেনী সদর-দাগনভূঞা) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতারের পর বিগত প্রায় ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। পরে গত ১৭ অক্টোবর দলের আমীর হিসেবে শপথ নেন মকবুল আহমাদ।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে- মকবুল আহমাদ ১৯৭১ সালে ফেনী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন। ওই সংবাদের সূত্র ধরেই মকবুল আহমাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সরেজমিন অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় গত ৮ নভেম্বর ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর লালপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ট্রাইব্যুনালের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

অভিযোগ রয়েছে- পাক হানাদার বাহিনীর দোসর শান্তি কমিটির ফেনী অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সংগঠক মকবুল আহমাদের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১ জুলাই লালপুর গ্রামের রাজাকার সাহাব উদ্দিন, বদিউর জামান ও লাতু মিয়ার নেতৃত্বে পাক হানাদার বাহিনী ওই গ্রামের হিন্দুপাড়ায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা হিন্দুপাড়ায় অবস্থান করা মুক্তিযোদ্ধা আনা মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে এবং হিন্দুপাড়ায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

হানাদার বাহিনী ওই এলাকার নারায়ণ চন্দ্র দে, মতিলাল দাস, বিপন পাল, দিলিপ চন্দ্র পাল, হরলাল পাল, কালিপদ ঘোষ, ধীরেন্দ্র কুমার ভৌমিক, তার ছেলে অমৃত লাল ভৌমিক, প্রিয়তোষ দাস ও নরেন্দ্র কুমার দাসকে হাত ও চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে ফেনীর সিও অফিস এলাকায় তৎকালীন পাক হানাদার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরদিন তাদেরকে দিয়ে মাটির গর্ত খুঁড়ে ১০ জনকে একসঙ্গে ব্রাশফায়ার করে মাটিচাপা দেয়। শহীদদের সঙ্গে থাকা মুক্তিযোদ্ধা খোকন চন্দ্র পাল ও নিহতদের পরিবার এই অভিযোগ করেছে।