Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:০৪ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

তাহলে বিএনপিকে এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন? – মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নানা বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি দুর্বল হলে এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন? সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপিকে নিয়ে কথা বলছেন কেন?

তিনি আরো বলেন, বিএনপি নাকি দুর্বল হয়ে গেছে। তাহলে তাদের দেখে এতো ভয় কেন? সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপিকে নিয়ে কথা বলছেন কেন? বিএনপিকে সমাবেশ, মিছিল, মিটিং করতে দেওয়া হয় না। অথচ আওয়ামী লীগ নিজেদের ইচ্ছেমত সমাবেশ করছে। এরশাদকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির নেতারা সমাবেশ বা মিছিল করতে গেলেই করতে দেওয়া হয় না, মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়। কেন নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ দাঁড় করিয়ে রাখছেন? বিএনপি নেতাকর্মীরা বেরিয়ে পড়লে আটকানো মুশকিল হবে এজন্যই কি এত ভয় পাচ্ছেন?

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের চরিত্রের সঙ্গে গ্রাম্য মোড়লের চরিত্রে খুব মিল আছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, যারা দুর্বল তারাই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে। গ্রামের মোড়লরা তাই করে।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আসুন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করি। মুখে বলবো গণতন্ত্রের কথা কিন্তু বাস্তবায়ন করবো না। এটা কি হতে পারে।

কাদের চাপে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা জানতে চেয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিদেশীদের চাপে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পরিষদে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। আমরা জানতে চাই, এরা কোন বিদেশী? কাদের চাপে ইসলামী ব্যাংকের পরির্বতন, এটা জানার অধিকার আছে।’

ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ভালো-মন্দ কিছু বলতে চাই না। ইসলামী ব্যাংক এমন কি সমস্যা তৈরি করেছে যার জন্য তাদের পরিচালানা পর্ষদকে নতুন করে গঠন করতে হবে?’

‘আপনারা তো নিরপেক্ষ সরকারের দাবি থেকে সরে এসে সহায়ক সরকারের কথা বলছেন, এ সরকারের রূপরেখা কী?’- সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা আপনারা সময়মত জানতে পারবেন।’

তিনি এ সময় সরকারের নানা অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, ‘সব কিছুর একমাত্র সমাধান হচ্ছে গণতন্ত্র ও নির্বাচন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই। তাহলেই কেবল সুশাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।’
মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের কাছে একদিন এর জবাব দিতে হবে।’

দেশে দুই ধরনের আইন চলছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের জন্য আরেকটি হচ্ছে বিএনপি ও সাধারণ মানুষের জন্য। এটা বলেই দিলেই হয়, আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের এবং অন্যদের জন্য আরেক ধরনের আইন চলবে।’

৫ জানুয়ারি বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেওযা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ কাউন্সিল করে, এমন কি এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সমাবেশ করতে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পর থেকে এই পর্যন্ত ৭বার অনুমতি চেয়ে আমরা তা পাইনি।’

ব্যাঙের ছাতার মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ অলিতে গলিতে স্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভয়টা কিসের, বিএনপির যদি এতই দুর্বল হয় তবে কেন মিছিল মিটিং করতে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ বিএনপি যদি সত্যিকার অর্থে বেরিয়ে পড়ে তাহলে তাদের সামাল দেওয়া যাবে না।’

বিএনপি আন্দোলনে দুর্বল হলেও সমর্থনে তাদের দুর্বল ভাবলে চলবে না আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ সময় শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘দেশকে ধ্বংস করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই অনতিবিলম্বে দল মত নির্বিশেষে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,খায়রুল কবির খোকন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।