ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:২১ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

তাহলে,কে ভাঙলো শহীদ মিনার?

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ‘কতিপয়’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জোংড়া ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠপ্রাঙ্গণের শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগেরই একাংশের পক্ষ থেকে। বিজয় দিবসের ৪ দিন বাকি। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শহীদ মিনার ভাঙার বিষয়টি আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা শহীদ মিনার ভাঙার বিষয় নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত মামলা করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।  

জানা গেছে, জোংড়া ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয় ও জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে শহীদ মিনারটি ১৯৯৬ সালে নির্মাণ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ শহীদ মিনারটি জোংড়া ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। গত মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা শহীদ মিনারটি গুড়িয়ে দেয়। বিষয়টি বুধবার জানাজানি হলে জোংড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জোংড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল হাসান আশরাফীর নেতৃত্বাধীন পক্ষটি বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ মোর্শেদ টিটুর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপন করেন।

জোংড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খালিদ মোর্শেদ টিটু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘ঘটনার তিন দিন আগে থেকে আমি এলাকায় ছিলাম না। শুনেছি গত মঙ্গলবার জোংড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতোয়ার রহমানের নির্দেশে মহান বিজয় দিবসের পূর্বপ্রস্তুতির সমন্বয় করতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জোংড়া ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমানের কাছে যান। এসময় তারা স্কুলের শহীদ মিনারটি মেরামত করারও দাবি জানিয়েছিল। তবে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থকের বিরুদ্ধে যদি শহীদ মিনার ভেঙে ফেলার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জোংড়া ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলীর বড় ছেলে খালিদ মোর্শেদ টিটু।   
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জোংড়া ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী জানান,  ‘শহীদ মিনার ভাঙার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি প্রশাসনের কমকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলার জোংড়া ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার মহান বিজয় দিবস উদযাপনের বিষয়ে অবহিত করতে আসলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করতে পরামর্শ দেই। তবে তারা এ সময় শহীদ মিনারটি সংস্কারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার সকালে স্কুলে এসে দেখতে পাই শহীদ মিনারটি কে বা কারা ভেঙে ফেলেছে। বিষয়টি উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা এক জরুরি বৈঠক করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলা করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 উপজেলার জোংড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতোয়ার রহমান বলেন, শহীদ মিনার ভেঙে ফেলার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আমার কাছে নেই। তবে এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ‘কতিপয়’ সমর্থকের নাম শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তিনি বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।  

জোংড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদুন্নবী শাহীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হক বলেন, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষের টেলিফোনে এ ঘটনার কথা শোনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এরপরও গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অনুসন্ধান চলছে।