ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৫৭ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

তারেক রহমান
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান

তারেকের সাজার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অর্থ পাঁচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাত বছরের সাজা প্রদানের হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সাক্ষরের পর সোমবার ৮২ পৃষ্ঠার রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিংয়ের মত আর্থিক অপরাধে তারেক রহমান সচেতনভাবেই জড়িয়ে পড়েছিলেন। যে কারনে তিনি ক্ষমা পাওয়ার দাবি রাখেন না। তিনি তার রাজনৈতিক উচ্চ শ্রেনীর অবস্থান ব্যবহার করে ‘পরামর্শক ফি’ এর নামে তার সহযোগীর (গিয়াসউদ্দিন আল মামুন) মাধ্যমে অবৈধ টাকা অর্জন করেছেন।

গত ২১ জুলাই হাইকোর্ট অর্থ পাঁচার মামলায় তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত তাকে এই মামলার অভিযোগ থেকে তারেককে বেকসুর খালাস দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে দুদক। দুদকের আপিল গ্রহন করে হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

এদিকে এই মামলার অপর আসামি তারেক রহমানের বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের সাত বছরের সাজার রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট। তবে ৪০ কোটি টাকা জরিমানার পরিবর্তে ২০ কোটি টাকা নির্ধারন করে দেয় আদালত। মামুন বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে কারাগারে রয়েছেন।

চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ

২০০৩ সালের বিভিন্ন সময়ে মামুনের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর সঙ্গে জড়িত থাকায় আরো চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এরা হলেন, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, নির্মাণ কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান খাদিজা ইসলাম, মেয়ার সাইরি ও মেরিনা জামান। এরা বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৪ লাখ মার্কিন ডলার পরিমাণ অর্থ মামুনের এ্যাকাউন্টে প্রেরণ করেন। হাইকোর্ট রায়ে বলেছে, এই অর্থ পাচারের প্রক্রিয়ার সঙ্গে চার ব্যক্তি জড়িত ছিল। অতএব মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযাথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

এ প্রসঙ্গে দুদকের কৌসুলি অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী দুদকের উচিত হবে এখনই ওই চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রম শুরু করা। তিনি বলেন, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার জন্য আবেদন দিয়েছি। রায়ের অনুলিপি পেলেই তা দুদককে দেয়া হবে। তবে হাইকোর্টের এই নির্দেশনার বিষয়টি ইতমধ্যে লিখিত ও মৌখিকভাবে দুদকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি কমিশনের নজরে রয়েছে। নগরীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিগত মহাজোট সরকারের আমলে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর তারেক রহমান ও মামুনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা দায়ের করে দুদক।