ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৪০ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৬ই অক্টোবর ২০১৮ ইং

তামিম-সাকিবের জোড়া শতকে চালকের আসনে টাইগাররা

তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের জোড়া সেঞ্চুরিতে খুলনা টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ভালো অবস্থায় রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তামিমের ১০৯ ও সাকিবের ১৩৭ রানের উপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৩৩ রানে অলআউট হয়েছে টাইগাররা। জবাবে প্রথম ইনিংসে দিন শেষে ১ উইকেটে ৫৩ রান করেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। ফলে এখনো ৩৮০ রানে পিছিয়ে রয়েছে ব্রেন্ডন টেইলরের দল।
খুলনা টেস্টের আগে বেশ বাজে সময়ই কাটাচ্ছিলেন বাংলাদেশর ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। মিরপুরে দুই ইনিংসে ৫ ও ০ রানে আউট হওয়ায়, অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছিল তামিমকে। কিন্ত তামিম তার জবাবটা দিলেন রাজকীয় ভঙ্গিতে। সব সমালোচনাকে তুরি মেরে উড়িয়ে দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম।
ক্যারিয়ারের ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ের দারুণ নিদর্শন দেখালেন তামিম। ফলে বাংলাদেশীদের মধ্যে মন্থরগতির সেঞ্চুরির তালিকায় উপরের দিকে স্থান করে নিয়েছেন দেশের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান। ড্যাশিং এ ওপেনার তিন অঙ্কে পৌঁছাতে খেলেছেন ৩১২ বল। তার আগে তিন শ’র বেশি বল খেলে সেঞ্চুরির নজির ছিল তামিমের বড় ভাই নাফিস ইকবালের। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকা টেস্টে সেঞ্চুরি পেতে ৩০৯ বল খেলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১০টি বাউন্ডারির সহায়তায় ৩৩২ বলে ১০৯ রানে আউট হন তামিম।
তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন আরেক সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান। তবে সাকিব তামিমের মতো ধীরগতির ব্যাটিং করেননি। স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ে সাকিব তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকের দেখা পান। সেঞ্চুরির পরও বড় ইনিংসের দিকেই ছুটছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যালকম ওয়ালারের শিকার হন সাকিব। ১৩৭ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১৮০ বলের ইনিংসে ১৮টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান তিনি।
আউট হবার আগে তামিমের বিদায়ের পর অধিনায়ক মুশফিককে নিয়ে জুটি বাধেন সাকিব। তবে দু’জনের ভুল বোঝাবুঝিতে ব্যক্তিগত ১১ রানে রান আউট হয়েছেন মুশফিক। পরে শুভাগত হোমকে সাথে নিয়ে আরও একটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়েন। সাকিব বিদায়ের পর শুভাগত ও শাহাদাৎ হোসেন আরও একটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস উপহার দেন। তাইজুল ৩২ এবং শাহাদাৎ ১৮ রান করে আউট হন। বাকি ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে না পারায় শেষ অবধি ৪৩৩ রানেই বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন পেনিয়াঙ্গারা, চাতারা, ওয়ালার।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের পর নিজের ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৭ রানের মাথায় সিকান্দার রাজাকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। অভিষিক্ত ব্রায়ান চারিকে সঙ্গ দিতে আসেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তারা দু’জনে জুটিতে ৩৬ রান করে মাঠ ছাড়েন। চারি ২১ ও মাসাকাদজা ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। এর আগে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৯৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : (দ্বিতীয় দিন শেষে)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৪৩৩/১০, ১৫৮.৫ ওভার (তামিম ১০৯, সাকিব ১৩৭, পেনিয়াঙ্গারা ২/৪৯)।
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস ৫৩/১, ১৯ ওভার (চারি ২১, মাসাকাদজা ১৫, তাইজুল ১/২১)।

Leave a Reply