ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৫৫ ঢাকা, রবিবার  ২২শে জুলাই ২০১৮ ইং

মন্ত্রিসভার বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক

‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নীতি প্রণয়ন’

তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর প্রভাবের ব্যাপারে মন্ত্রিসভা আজ ‘দ্য হেল্থ ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ ম্যানেজমেন্ট পলিসি-২০১৭’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বৈঠক শেষে বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে একটা আইন পেশ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে দিক-নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়।

শফিউল আলম বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি তামাকমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূর্ব ঘোষণার প্রেক্ষাপটে তামাক ও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এই নীতিতে কতিপয় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইতোমধ্যে সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবছর তিনশ’ কোটি টাকা জমা করা হচ্ছে। এই তহবিল স্বাস্থ্য সেক্টরের বিভিন্ন কাজে বিশেষ করে তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এছাড়া এই নতুন নীতির আওতায় মনিটরিং ও মূল্যায়ন এবং অনুরূপ কাজে পাশাপাশি জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। তিনি আরো বলেন, এই নীতি স্বাস্থ্য সেক্টর সংশ্লিষ্ট টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মন্ত্রিসভা ১৯৭৯ সালের মূল আইন ‘দি ন্যাশনাল একাডেমী ফর প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট ল, ২০১৭’-এর বঙ্গানুবাদের খসড়াও অনুমোদন করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ন্যাশনাল একাডেমী ফর প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট-১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯৭৯ সালের সামরিক সরকারের আমলে ঘোষিত ‘দি গভঃমেন্ট এডুকেশন ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন এমেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স’ অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়।

সুপ্রিমকোর্ট সকল সামরিক আইনকে অবৈধ ঘোষণার ফলে বাংলায় নতুন করে এই আইন করা হচ্ছে।

সচিব বলেন, এই আইনটি এই ধরনের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের আদি আইন রূপে বিবেচিত হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ১৫ সদস্যের এক পরিচালনা পরিষদ হবে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যথাক্রমে এর চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান হবেন। মহাপরিচালক হবেন সদস্য সচিব।

প্রতিমন্ত্রী না থাকলে সংশ্লিষ্ট সচিব ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য সদস্যরা সরকারি কর্মকর্তা ও সরকার মনোনীত বেসরকারি প্রতিনিধি হবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের তহবিল, বাজেট, নিরীক্ষা ও হিসাব অন্যান্য সংস্থার মতো হবে।

মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান পরিষদ ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর- সংশোধনী) আইন ২০১৭-এ অনুমোদন দিয়েছে।

তিনি বলেন, এ আইনটি প্রথম ২০১৩ সালে প্রণীত হয়। এতে বিশেষ মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন গবেষকদের ক্ষেত্রে অবসরের বয়সসীমা হচ্ছে ৬৭ বছর। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন নীতি প্রণীত না হওয়ায় সময়ের সাথে সাথে জটিলতা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভা আইনে সংশোধনী আনার জন্য এই ধারাটি বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে বিশ্ব মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টার অব দ্য ইস্ট, দ্য মাদার অব দ্য হিউম্যানিটি এবং রাউল গাস্টাফ ওয়ালেন বার্গ সঙ্গে তুল্য হওয়ায় অভিনন্দন প্রস্তাব গৃহিত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) খালিজ টাইমস সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থানের জন্য তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে নিউ স্টার অব ইস্ট হিসেবে ভূষিত করে। ইউএই হতে দীর্ঘদিন থেকে প্রকাশিত এই খালিজ টাইমস পত্রিকায় বিশিষ্ট সাংবাদিক এ্যালান জ্যাকব এক নিবন্ধে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গা রক্ষায় সীমান্ত খুলে দিয়ে সহানুভূতি ও সমবেদনার স্বাক্ষর রাখার জন্য শেখ হাসিনাকে নিউ স্টার অব ইস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ব্রিটিশ মিডিয়া চ্যানেল-৪ রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবস্থানের জন্য শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে অভিহিত করে।

এশিয়ান এজ শেখ হাসিনাকে রাউল গাস্টাফ ওয়ালেন-বার্গ-এর সাথে তুলনা করেন। সুইডেনের ব্যবসায়ী রাউল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানীর নাৎসী বাহিনীর হলোকাস্ট থেকে হাঙ্গেরীর হাজার হাজার মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। রাউল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাঙ্গেরীতে সুইডেনের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জার্মান বাহিনী হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেতে হাঙ্গেরীর মানুষকে সুইডেনে যাওয়ার ভিসা ইস্যু করেছিলেন।

 

আরো পড়তে পারেন

“খুঁচিয়ে আমার দু’চোখ তুলে নেয় পুলিশ”