ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৪৮ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

তাজরীনে নিহত শ্রমিকরাও জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ক্ষতিপূরণ নীতিমালার মানদণ্ড অনুযায়ী এবার আলোচিত তাজরীন ফ্যাশন্সের  ক্ষতিপূরণ পাবেন। এতে একজন নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হবে। এ অর্থ নিহতদের স্বজনদের (নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে) বণ্টন করে দেয়া হবে। আর আহতদের ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় ক্ষতিপূরণ এই অঙ্কের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। ক্ষতিপূরণের অর্থসংস্থান করবে নেদারল্যান্ডভিত্তিক সিএন্ডএ ফাউন্ডেশন। অবশ্য ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া অর্থ বাদ দিয়ে বাকি অর্থই ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে সিএন্ডএ ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি নিহতদের উপর নির্ভরশীল স্বজন ও আহতদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। আগামী ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশন্সের অগ্নিকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের পূর্ণাঙ্গ অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন। সিএন্ডএ ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে নেদারল্যান্ডভিত্তিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ক্লিন ক্লথ্স্ ক্যাম্পেইন ও সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন। এর আগে রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। আইএলও’র নীতিমালার ১২১ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

tajrin2ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল সুত্রে জানাযায়, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাজরীনের ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে। এক্ষেত্রে নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা (স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, মা, বাবা, ভাই-বোন) আলাদা আলাদাভাবে পাবেন। একজন নিহতের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকার কম হবে না। আর আহতদের ক্ষতিপূরণ ক্ষতির বিবেচনায় আরো বেশিও হতে পারে। আগামী দুই মাসের মধ্যে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এ অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সাভারের নিশ্চিন্তপুরে ভয়াবহ তাজরীন অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় ১১২ জন শ্রমিক নিহত ছাড়াও নিখোঁজ রয়েছে আরো ৯ জন। আর আহত হন প্রায় ২শ’ শ্রমিক। এর মধ্যে অনেকেই গুরুতর আহত হন। অগ্নি দুর্ঘটনায় ওই হতাহতের ঘটনা বিশ্বব্যাপী দারুণ আলোড়ন তোলে।

কমিটির সদস্য ও ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের কর্তা বলেন, সর্বশেষ গত ২৯ জুলাই এ বিষয়ে কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু উঠে এসেছে। আহত শ্রমিকদের নতুনভাবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। যারা এখনো কাজ পায়নি তাদের অর্থ দেয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া এবং শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্ত অর্থ ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগাতে পারে তাও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা। তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার ইতিমধ্যে ৭ লাখ টাকা করে পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, শ্রম মন্ত্রণালয়, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ক্রেতা প্রতিষ্ঠান লিঅ্যান্ডফাং, সিঅ্যান্ডএ ও পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এতে অর্থ সহায়তা দিয়েছে।

তাজরীন ফ্যাশন্স যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ওয়ালমার্ট, ইতালিয়া, লিএন্ডফাং, ডিজনি, সিয়ার্স, ডিকিজ, ডেল্টা অ্যাপারেল, শন ইয়নের মতো ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য পোশাক তৈরি করত। তবে একমাত্র লিঅ্যান্ডফাং ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাজরীনে ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো অর্থ সহায়তা দেয়নি। এমনকি নিজেদের দায়ও স্বীকার করেনি। অবশ্য এক্ষেত্রে শুরুতেই এগিয়ে এসেছে সিএন্ডএ ফাউন্ডেশন। ২০১২ সালে তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাণহানির শিকার ১১২ পরিবারকে তাত্ক্ষণিক অর্থসহায়তা দেয় সিএন্ডএ ফাউন্ডেশন। এছাড়া হতাহতের ওপর নির্ভরশীল ৪৯ জনের জন্য একটি তহবিলও গঠন করে সংস্থাটি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কারিতাস, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে হতাহতদের শিশুসন্তানদের জন্যও একটি প্রকল্প গ্রহণ করে।