ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৪৯ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

তনু হত্যা: ডিএনএ প্রতিবেদন হস্তান্তর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর পুরো ডিএনএ প্রতিবেদন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ওই ডিএনএ প্রতিবেদন সিআইডির মাধ্যমে মেডিকেল বোর্ড প্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সভাপতি ডা. কামদা প্রসাদ সাহা এবং সিআইডি-কুমিল্লার পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

গত রোববার তনুর পুরো ডিএনএ প্রতিবেদন ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জানা যায়, গত ২৯ মে তনুর দুটি বিষয়ের (ভেজাইনাল সোয়াব ও দাঁত) ডিএনএ প্রতিবেদন ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করতে সিআইডিকে আদেশ দিয়েছিলেন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

কিন্তু তনুর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে ভেজাইনাল সোয়াব, অন্তর্বাস, মোবাইল, হাতব্যাগ, কাপড়, চুলসহ ভিন্ন ভিন্ন সব ডিএনএ প্রতিবেদন ফরেনসিক বিভাগে সরবরাহ করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে তদন্ত সংস্থা আদালতে এ আবেদন করলে রোববার আদালত এ আদেশ দেন।

মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, তনুর ডিএনএ’র পুরো প্রতিবেদনটি সিআইডি’র নিকট থেকে পেয়েছি। সহসা বোর্ডের সভা আহ্বান করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।

গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ২১ মার্চ দুপুরের দিকে কুমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা তনুর ময়নাতদন্ত করেন। গত ৪ এপ্রিল প্রকাশ করা প্রথম ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর কারণ বা ধর্ষণের আলামত উল্লেখ ছিল না।

গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ১৪ মে কুমিল্লার আদালতে এসে পৌঁছায় নিহত তনুর ৭টি বিষয়ের ডিএনএ প্রতিবেদন।

গত ১৬ মে তনুর ভেজাইনাল সোয়াবে পৃথক ৩ জন পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তনুর মৃত্যু নিয়ে আবারো আলোচনার ঝড় ওঠে। ওই ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে ফরেনসিক বিভাগের চিঠি চালাচালির পর বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত।