Press "Enter" to skip to content

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর হবে না : হুদা

একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দাবির বিষয়ে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, এটা আর হবে না।

এ ছাড়া বর্তমান সরকারও নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রেখেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। আজ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সংলাপ শেষে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা যদি বলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকার, এটা আর হবে না। এটা পারবেন না। ইসি তো এ পরিবর্তন আনতে পারে না। সুতরাং এ নিয়ে আমাদের আলাপই হয়নি। কেননা, এটা প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়। তারা এটা শুধু নির্বাচনের আগে কেন বলবে?’ কাজেই বর্তমান সরকার ও ইসির উপর আস্থা রেখেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আসতে হবে।

তিনি বলেন, কিছু বিষয় রয়েছে যা ইসির আওতাভুক্ত। আবার কিছু বিষয় রয়েছে ইসির কিছুই করার নেই। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ সংলাপে এর সমাধান হবে না। কেননা, নির্বাচনের আর এক বছর বাকি রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব শুধু ইসির একার নয়। দলগুলোরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। গত নির্বাচন ‘বিএনপি’ বয়কট করায় নির্বাচনের কালচারের ক্ষতি হয়েছে। এজন্য দলগুলোকে সজাগ থাকতে হবে, যেন সবাই নির্বাচনে আসে।

নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতি পাল্টে সব রাজনৈতিক দলকে আগামী নির্বাচনের আসার পরামর্শ দিয়ে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সাবেক এ সিইসি বলেন, এবার না এলে ‘মুশকিল’ আছে। কেউ যেনো নির্বাচন না করার মনোবৃত্তি না রাখেন।

বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী এখন নির্বাহী ও বিচার বিভাগ আলাদা। তাই বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে সেনা মোতায়েন সম্ভব নয়। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং বাড়ি ফিরতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা বিজিবি, র‌্যাব এবং পুলিশের মাধ্যমেই করা সম্ভব।

এটিএম শামসুল হুদা বলেন, নির্বাচনে সব পার্টির আসার জন্য ইসির চ্যালেঞ্জ হচ্ছে-তাদের কাজকর্মে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। এমন কিছু করবেন না যেন আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। কিছুটা আস্থা তৈরি হয়েছে এটাকে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গেলে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।

সাবেক সিইসি বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এটা ঠিক করতে না পারলে পারমাণবিক অস্ত্র দিয়েও নির্বাচন সুষ্ঠু করা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটারকেই দায়িত্ব দিতে হবে। ভোটাররাই তাদের এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে। এজন্য ৫শ’ জন ভোটারের জন্য একটি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের ইস্যুটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। নির্বাচন কমিশন কী করবে? নির্বাচন কমিশনের তো করার কিছু নেই। এটা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনেই বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করা হয়নি। বিচারিক ক্ষমতা যে দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আর্মি থাকবে, সাথে ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবে। কারণ আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। সেখানে মেজিস্ট্রেট থাকবে, কোর্ট থাকবে।’

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমাতে নির্বাচন কমিশন একটি উদ্যোগ নিতে পারে। এ উদ্যোগ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে দোষটা তাদের (ইসি) না। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা ইসির দায়িত্ব। আর এজন্য এ ধরনের উদ্যোগ ইসি নিতে পারে। কিন্তু এ উদ্যোগ যে সফল হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সফল না হলে ইসির কোনো দায় নেই।

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের ভোটার করার আইন করেছিলাম আমরা। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রত্যেক দূতাবাস বা হাইকমিশনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছি।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমাদের সময়ে বিরাট একটি দল ও জোট না আসায় আর নির্বাচনে বাধা দেয়ার কারণে আমরা সমস্যায় পড়েছিলাম। যান, মাল সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচন কমিশন ও দেশের জন্য সৌভাগ্য সুন্দর নির্বাচনের জন্য সবাই আগ্রহী হয়ে আছে। এখন ইসির উচিত হবে সুন্দর নির্বাচনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া। নির্বাচনী আসন নিয়ে খুব একটা সমস্যা নেই। একইভাবে বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন করা সম্ভব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরপিও’র ৫ ধারা এবং সংবিধানের ১২৬ ধারা অনুসারে ইসিকে যে ক্ষমতাগুলো দেয়া হয়েছে সেগুলো প্রয়োগ করলে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে। কিন্তু এজন্য সেনাবাহিনীকে মেজিট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার দরকার নেই।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশনের এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার খান মো. নুরুল হুদা। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. সাইফুল আলম, ব্রি.জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, সাবেক ইসি সচিব ড. এ এফ এম মহিউর রহমান, সাবেক সচিব হুমায়ুন কবির, সাবেক আইজিপি মোহম্মদ হাদীস উদ্দীন, সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম, সাবেক সচিব এএসএম ইয়াহিয়া চৌধুরী, সাবেক মহাপরিচালক বিজিবি ও আনসার-ভিডিপি মেজর জেনারেল (অব.) রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব মঞ্জুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্যন্ত ৪০টি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসি। এছাড়া সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি। দীর্ঘ তিন মাস ধরে এ সংলাপ চলে। আজ ছিল সংলাপের শেষ দিন। -বাসস

Mission News Theme by Compete Themes.