ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:১১ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বন্দুকযুদ্ধ
পুলিশ বলছে, বুদু মনির একাধিক হত্যা মামলার আসামি।

ঢাকা-রাজশাহী-ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চারজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।

পুলিশের ভাষ্যে, নিহতদের মধ্যে তিনজন জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ও একজন ডাকাতদলের সদস্য।

মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর পল্লবীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দু’জন নিহত হয়েছেন।

পল্লবী থানার কালশী লোহার ব্রিজের পাশে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারলেও পুলিশের দাবি, নিহতরা উত্তরবঙ্গ থেকে আসা জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।

তাদের একজনের বয়স আনুমানিক ৩২ ও আরেকজনের ৪০ বছর  হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পল্লবী থানার এসআই আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কালশীর লোহার ব্রিজ এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায়। সেখানে অবস্থান নেয়া ৪/৫ জন সন্ত্রাসী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

পরে দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও রাজশাহীর বাগমারার সৈয়দপুর গ্রামে আহমাদিয়া (কাদিয়ানি) মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর সহযোগী জেএমবি ক্যাডার জামাল উদ্দিন (২৮) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর চাপড়া এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।

জামাল উদ্দিনের বাবার নাম তাবজুল হক। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর কালিনগর গ্রামে।

পুলিশের ভাষ্যে, রাজশাহী জেলা পুলিশের স্পেশাল টিম সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাবু ডাইং এলাকা থেকে জামালকে গ্রেফতার করে।

তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী টিমের আরেক সদস্যকে আটক করতে গোদাগাড়ীর ফরাদপুরে যাওয়ার সময় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার ভোরে ময়নাতদন্তের জন্য জামালের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়।

এদিকে আহমাদিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলকারীর পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। তিনি হলেন তারেক (২৪)। তার বাবার নাম আবু সালেক।

তারেকের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া  ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামে।

পুলিশ জানায়, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী তারেক চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিলেন। এক সময় শিবির করলেও পরে জেএমবিতে সক্রিয় হন। তারেকের বাবা আবু সালেক জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং সাবেক সেনা সদস্য।

সম্প্রতি তারেকের পরিচয় শনাক্ত ও তার সহযোগী জামালকে ধরিয়ে দিতে রাজশাহী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সেই সূত্র ধরেই জামালের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।

রাজশাহী জেলা পুলিশের স্পেশাল টিমের সদস্য ও আলোচিত মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মামুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে জানান, গত বছর ২৫ ডিসেম্বর জুমার নামাজের সময় বাগমারার আহমাদিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমায় নিহত হন তারেক।

কিন্তু সে সময়ে কেউ তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। পরে মোবাইল ফোনের সূত্র অনুসন্ধান করে বোমা হামলাকারীর সহযোগীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, জামালকে আটক করে তার প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী তারেকের বাড়িতে গিয়ে তার ছবি ও পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

তারেকের বাবা রাতের ওই অভিযানের সময় বাড়িতে ছিলেন না। তারেকের বাবা আবু সালেককে ধরতে রাজশাহীর তানোরের কালিগঞ্জেও অভিযান চালায় পুলিশ। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রুবেল মিয়া (২৮) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। এ সময় নাসিরনগর থানার ওসি  চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

নিহত রুবেল একই উপজেলার নুরপুর গ্রামের ফয়েজ মিয়ার ছেলে।

সোমবার গভীর রাতে নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা ইউনিয়নের তুল্লাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পাইপগান ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, নিহত রুবেল এলাকার চিহ্নিত ডাকাত এবং তার বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে।

নাসিরনগর থানার ওসি মো. আবদুল কাদের গণমাধ্যমকে জানান, দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার তুল্লাপাড়া এলাকায় একদল সশস্ত্র ডাকাত রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে ডাকাতি করছিল। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এ সময় নিজেদের আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ডাকাত সদস্য রুবেল মিয়া মারা যান। এ সময় অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যান।

এ সময় ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে তিনিসহ এএসআই আশরাফুল, কনস্টেবল রাখাল ও আবু তাহের আহত হয়েছেন।