ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৫১ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

"মোবাইলে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা"
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন, ফাইল ফটো

‘নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা মৌলিক অধিকার পাবে’

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেছেন, নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের সব ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

বন্দি স্থানান্তর বিষয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কারা অধিদফতরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, নতুন কারাগারে বন্দিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার প্রদানের পাশাপাশি সুস্থ পরিবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এক্ষেত্রে আগের কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে এমন কোনো অসাধু সিন্ডিকেট এখানে গড়ে উঠতে দেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, নতুন কারাগারে বন্দিদের সুস্থ পরিবেশ দেয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কঠোর করা হয়েছে। কারাগারের আশপাশে কোনো ছোট-বড় স্থাপনা এবং ভ্রাম্যমাণ দোকান গড়ে উঠতে দেয়া হবে না।

সৈয়দ ইফতেখার জানান, বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের সাময়িক সমস্যা হতে পারে। তবে শিগগিরই তাদের জন্য বিশ্রামাগার, আধুনিক ক্যাফেটারিয়া, স্টোর এবং রেস্টুরেন্ট দেয়া হবে।

কেরানীগঞ্জের কারাগারে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ কক্ষটির পরিসর ছোট উল্লেখ করে তিনি জানান, সাক্ষাৎ কক্ষটির পরিসর ছোট। প্রাথমিকভাবে দর্শনার্থী ও বন্দিদের সাক্ষাতে সাময়িক সমস্যা হতে পারে। তবে শিগগিরই চারতলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে একসঙ্গে ৮০ জন বন্দির সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে কাজ চলছে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে স্থান বরাদ্দের দিক দিয়ে প্রতিজন বন্দির জন্য ৯০ স্কয়ার ফুট জায়গা বরাদ্দ থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে থাকার জায়গা, টয়লেট-বাথরুম, খাবার কক্ষ, বারান্দা।

এদিকে শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বন্দি স্থানান্তর কার্যক্রমে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আটটি বহরে প্রায় ৩ হাজার বন্দি স্থানান্তর হয়েছেন বলে জানিয়েছে কারা সূত্র।

স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় প্রতিটি বহরে মোট ৮টি প্রিজন ভ্যান থাকছে। এই কার্যক্রমে মোট ২৫টি প্রিজন ভ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। মোট ৬ হাজার ৪শ’ জন বন্দিকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, যে গতিতে বন্দি স্থানান্তর হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আজকের মধ্যেই সব বন্দি স্থানান্তর সম্ভব হবে।

কেরানীগঞ্জের কারাগারটি পুরুষ কারাগার হওয়ায় ইতিমধ্যেই প্রায় সব নারী ও শিশু বন্দিকে কাশিমপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া জঙ্গি, সন্ত্রাসী, যুদ্ধাপরাধী ও বিপদজনক বন্দিদের কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে নবনির্মিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (পুরুষ-১) গত ১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন।

কারাগারটি এশিয়ার সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম মডেল কারাগার। নতুন এ কারাগারটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ’। এ কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৫৯০ জন বন্দি।

উদ্বোধনের পরপরই নাজিমউদ্দিন সড়কে অবস্থিত কারাগার থেকে বন্দি ও মালামাল সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। পুরনো কম্বল, অফিসিয়াল কাগজপত্র, উৎপাদন বিভাগের যন্ত্রপাতি, পোশাক তৈরির তাঁত, থালাবাটি তৈরির মেশিন প্রভৃতি কেরানীগঞ্জে নেয়া হয়েছে।