ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:০৯ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘যানজট কমিয়ে আনতে খসড়া আইন অনুমোদন’

মন্ত্রিসভা বৈঠকে আজ রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে একটি যান চলাচল ব্যবস্থা হিসেবে পরিকল্পিত ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট’ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি খসড়া আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট কমিয়ে আনতে বিআরটি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। একটি বাস রুটের মাধ্যমে গাজীপুর-বিমানবন্দর-ঝিলমিল রুটে প্রতি ঘন্টায় ৪০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লাইসেন্স ছাড়া যদি কেউ র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইনে বাস চালায়, যদি কেউ পূর্বানুমতি ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর করে এবং যদি কেউ বিনা অনুমতিতে টিকেট ছাপায়, তাহলে তাকে ১০ বছরের কারাদ- অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় ধরনের শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে।
তিনি বলেন, বিআরটি’র কোনো কর্মচারী যদি অবৈধ টিকেট তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তাকে দুই বছরের কারাদ- অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ভোগ করতে হবে।
প্রস্তাবিত আইনে অপরাধকারীদের শাস্তি প্রদানের জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে এ রুটে বাস ভাড়া পুননির্ধরণের জন্য ‘কর্তৃপক্ষ’ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়া আইনে বিআরটি এর অধীনে পারমিট প্রাপ্ত যানবাহনে ভ্রমনকারী ব্যক্তির মৃত্যু বা অন্য কোন ক্ষতি হলে লাইসেন্সধারীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধিসহ মানবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কেবিনেট সচিব বলেন, লাইসেন্সধারীকে অবশ্যই ক্ষতির ‘মাত্রা’ অনুযায়ী মৃত বা আহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, নিজের খরচে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তির চিকিৎসার খরচ লাইসেন্সধারীকে বহন করতে হবে।
কেবিনেট সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনের বিধান অনুযায়ী সরকার বাস ভাড়া পুননির্ধারণ করার জন্য সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবে। বিআরটিএ রুটে চলাচলকারী বাসের ভাড়া পুননির্ধারণ করার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। কর্তৃপক্ষ ভাড়া সম্পর্কিত তথ্য দৈনিক সংবাদপত্র ও তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে।
আসন ‘সংরক্ষণের’ বিষয়ে কেবিনেট সচিব বলেন, কর্তৃপক্ষ বিআরটি ব্যবস্থার অধীন সকল কোচে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শিশু ও প্রতিবন্ধিদের জন্য আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিদ্যমান আইনের ঈদ ও উ’সব ভাতা এবং নববর্ষ ভাতা যুক্ত করে ‘সুপ্রীম কোর্ট জাজেস (রিম্যুনারেশন এন্ড প্রিভিলিজেস) সংশোধনী আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
তিনি বলেন, সুপ্রীম কোর্টেও বিচারকরা এখন একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঈদ ও উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। তারা অন্যান্য সরকারী চাকুরিজীবিদের মতোই চলতি বছর থেকে পহেলা বৈশাখে ভাতা হিসেবে মোট বেতনের ২০ শতাংশ পাবেন।
তিনি বলেন, সুপ্রীম কোর্টের বিচারকরা প্রজ্ঞাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান আইনের অধীনে ঈদ ও অন্যান্য উৎসব ভাতা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। সে লক্ষ্যে এই বিধি যুক্ত করে আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
কেবিনেট সচিব বলেন, আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘পারমাণবিক জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকারের মধ্যে চুক্তি’র খসড়া অনুমোদিত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া সরকারের সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, (রূপপুর ) বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘কারিগরি জ্ঞানের’ প্রয়োজন রয়েছে এবং বাংলাদেশ বর্তমানে এ বিষয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে ‘কারিগরি জ্ঞান’ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, রাশিয়ার সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ভারতও শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহার করছে, যা উৎসাহব্যঞ্জক।
তিনি আরো বলেন, ভারত সরকার পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্পর্কে বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে চায়। বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞরা যাতে এই প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে পারে সে লক্ষ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম ২০১৫ সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং সিঙ্গাপুরে গত ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এভিয়েশন লিডারশীপ সামিট ২০১৬ ও সিঙ্গাপুর এয়ার শো’ ২০১৬ উপলক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সফর সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
এ ছাড়াও, ১৮-২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০১৬ তে শিক্ষামন্ত্রীর অংশগ্রহন, ২৪-২৮ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সফর এবং ১৬-১৭ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমীরাতের দুবাই নগরীতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (ইরিনা) পরিষদের ষষ্ঠ অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর অংশগ্রহনের বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অবহিত করা হয়।
মন্ত্রীবর্গ ও প্রতিমন্ত্রীরা সভায় যোগ দেন এবং সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।