ফাইল ফটো

“ঢাকায় পাতালরেল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ”

ঢাকায় মেট্রোরেলের পাশাপাশি পাতালরেলও নির্মিত হবে ‘পদ্মা সেতু’ প্রকল্পের মতো এটিও হবে একটি স্বপ্নের প্রকল্প। এতে করে বিদ্যমান যানজট অনেক কমে আসবে। এ প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তারও আশ্বাস পাওয়া গেছে।
গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিকল্পনা কমিশনকে পাতাল রেল নির্মাণ প্রকল্প তৈরির এ নির্দেশ দেন।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফকালে একথা বলেন। একনেক চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজকের সভায় মোট ৬৩৮৭ কোটি টাকায় ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মোট ব্যয়ের সরকারি অর্থায়ন ৪১৯৭ কোটি টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ২১৬৫ কোটি টাকার যোগান দেয়া হবে ।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, পাতালরেল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হবে এবং এর ভিত্তিতে তৈরি হবে প্রকল্পটি ।
মন্ত্রী বলেন, চলমান মেট্রোরেলের পাশাপাশি পাতালরেল প্রকল্পও চলবে। এছাড়া, রাজধানীর চলমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও চালু থাকবে।
পাতালরেল প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ সফররত বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাইল পিটারস এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে পায়রা বন্দর দিয়ে সীমিত আকারে পণ্য খালাস শুরু হবে। বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত বহিঃনোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য উঠা-নামার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এজন্য ওয়্যার হাউস, ক্রেইন, পন্টুন, পাইলট বোট, টাগ বোট, বয়া লেইয়িং ভেসেল, সার্ভে বোট, প্রশাসনিক ভবনসহ ন্যূনতম অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করতে একনেক সভায় ‘পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদির উন্নয়ন’ শীর্ষক ১১২৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
মন্ত্রী বলেন,‘১৬ একর জমির উপর পন্টুন, ক্রেইন, নিরাপত্তা ভবন ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে। বড় আকারের জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে লাইটারিংয়ের প্রয়োজনীয় কাজও শেষ হয়েছে।
মুস্তফা কামাল বলেন,‘ ২০২৩ সাল নাগাদ এ বন্দর পূণাঙ্গভাবে চালু হবে। তখন এখানে ৭৫০০টি কন্টেনারের স্থান সংকুলান হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৫০০ টি কন্টেনারের স্থান সংকুলান হয়। এতে কার্গো হ্যান্ডেলিং খরচ বর্তমানের চেয়ে ৩ গুন কমে আসবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সাল নাগাদ পায়রা বন্দর দিয়ে ৪ কোটি টন কয়লা খালাস করা যাবে। এছাড়া এখানে এলএনজি টার্মিনালও নির্মিত হবে।
চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সোনাদিয়ায় নয়, গভীর সমুদ্র বন্দর হবে চট্টগ্রামের মাতারবাড়িতে । এছাড়া, পায়রায় আরো একটি গভীর সমুদ্রবন্দর হবে’।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন,‘ প্রাথমিকভাবে এ বন্দর দিয়ে খাদ্য-শস্য, সার ও সিমেন্টসহ অন্যান্য পণ্য ওঠা-নামা করবে। এজন্য ১ লাখ বর্গফুট ধারণ ক্ষমতার একটি ওয়্যারহাউস এবং পণ্য পরিবহণে প্রায় ৬ কিলোমিটার ৪ লেনের সড়ক নির্মিত হবে। নাব্যতা বজায় রাখতেও প্রায় ৯৪ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ করা হবে’।
দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর হিসেবে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রামনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে গড়ে উঠা এ বন্দরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
বৈঠকে মন্ত্রীবর্গ,প্রতিমন্ত্রী,সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সংশোধিত: , মাধ্যম: