ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:০৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আছাদুজ্জামান মিয়া
ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, ফাইল ফটো

ঢাকা’কে শঙ্কা ও ভীতিমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: ডিএমপি কমিশনার

dmp3

বাম হাত দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে

dmp2

দুই হাত দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

“পুলিশকে গণমুখী করার জন্য ও পুলিশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে আরও বেশী আন্তরিক হয়ে কাজ করতে হবে, আমরা ঢাকা মহানগরীকে শঙ্কা ও ভীতিমুক্ত তিলোওমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই” তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের দরজায় গিয়ে বলতে চাই আপনি ভালো আছেন তো” আমরা যে কোন সময় আপনার পাশেই আছি।

পুলিশ কমিশনারের এ ধরণের জনপ্রিয় বক্তব্য শান্তিপ্রিয় নগরবাসীকে আশান্বিত করবে বলে মনে করছি।

আজ রবিবার সকাল ১০.০০ টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হেডকোয়ার্টার্সের মাসিক অপরাধ সভায় উপস্থিত সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন-ঢাকা মহানগরীর প্রত্যেকটি মানুষকে আমরা উন্নত পুলিশি সেবা দিতে চাই, সে লক্ষ্যে আগামী ০৬ মাসের মধ্যে টু কমিউনিকেশন ওয়ান এর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের দরজায় গিয়ে বলতে চাই আপনি ভালো আছেন তো” আমরা যে কোন সময় আপনার পাশেই আছি। তিনি তাঁর বক্তব্যে থানার সেবার মান বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন-থানায় সেবার মান বাড়াতে হবে, জনবান্ধব পুলিশিং এর মাধ্যমে জনসাধারনের আস্থা অর্জন করতে হবে। মাদক, ছিনতাই,চুরি,ডাকাতি ও সকল ধরনের সন্ত্রাস বন্ধের জন্য জনসাধারনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন- থানায় জিডি করতে এসে কেউ যেন কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হয়। আমি চাই জিডি করার জন্য থানা থেকেই কাগজ ও কলম সরবরাহ করা হোক। এ সময় তিনি বিট পুলিশিং ও উঠান বৈঠকের কথা উল্লেখকরে বলেন- পুলিশিং সেবাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নগরীর প্রত্যেকটি জায়গায় বিট পুলিশিং ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনসাধারনকে সাথে নিয়ে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মাসিক অপরাধ সভার এক পর্যায়ে ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ মহানগর পুলিশ কমিশনার বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে বিজয়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের কে নগদ অর্থ পুরুস্কার প্রদান করেন। এ মাসে মহানগরীর শ্রেষ্ঠ পুলিশ বিভাগ নির্বাচিত হয়েছে মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন এবিএম জাকির হোসেন, শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক হয়েছেন ওসি সূত্রাপুর তপন চন্দ্র সাহা, শ্রেষ্ঠ এসআই মিরপুর মডেল থানার রাশেদুজ্জামান ও শ্রেষ্ঠ কনস্টেবল নির্বাচিত হয়েছেন দারুস সালাম থানার সঞ্জয় কুমার মোহন্ত। গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগে শ্রেষ্ঠ বিভাগ হয়েছে গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য (পূর্ব) বিভাগ, অবৈধ মাদক উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমে সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহিনুর আলম পাটোয়ারী, ট্রাফিক বিভাগে ট্রাফিক পূর্ব বিভাগ, এবং ট্রাফিকের শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার এবং বিশেষ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকার লাভ করে কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।

সভায় বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি ও আসন্ন পহেল বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শেখ মারুফ হাসান সহ ডিএমপি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের ডিসি, এডিসি, এসি ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে দুই হাত দিয়ে পুরস্কৃত করাটা যেমন খুবই আন্তরিকতার পরিচয় বহন করে পাশাপাশি বাম হাত দিয়ে পুরস্কৃত করাটা ঠিক উল্টো অর্থ বহন করে। যা মোটেই শোভনীয় নয়। কোন অনুষ্ঠানে পদবী যা-ই হোক না কেন সন্মানিত করার অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা দৃষ্টিকটু ও অমর্যাদাকরও বটে। পুলিশ কমিশনার সাহেব বিষয়টি খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা। আশাকরি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন। আর এ ধরণের পোষ্ট ডিএমপির ফেসবুক পেজে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ দেখেছে, হাজার হাজার পুলিশ সদস্যরাও দেখছেন বা দেখবেন, যা তাদের মনে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিতে পারে।