Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:১৪ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

খন্দকার মোশাররফ হোসেন

‘ডিজিটালাইজড হচ্ছে সকল সিটি কর্পোরেশনের হিসাব ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, রাজস্ব আদায়ের অব্যবস্থাপনা দূর করার লক্ষ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল সিটি কর্পোরেশনের হিসাব ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজড করা হবে।

তিনি বলেন, হিসাব ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অটোমেশন করা হলে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ হ্রাস পাবে।

মন্ত্রী আজ সচিবালয়স্থ স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের হিসাব ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব বেগম নাসরিন আক্তার (অতিরিক্ত সচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন ।

মন্ত্রী বলেন, এই অটোমেশন চালু হওয়ার ফলে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থাটি হাতের নাগালে চলে আসল। রাজস্ব আদায়ে এর সুফল সবাই ভোগ করবে। বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থায় সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহ প্রায় সিংহভাগ রাজস্ব আদায় করতে পারে না। অটোমেশনের ফলে একটি নির্দিষ্ট ডাটাবেজের মাধ্যমে রাজস্ব দাতা ও রাজস্ব গ্রহীতা উভয়েই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে আসবে।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন পূরণে এ অটোমেশন একটি বড় পদক্ষেপ। আমাদের সরকার ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে এর আর্থিক সক্ষমতা ও কর্মচঞ্চলতা বাড়াতে হবে। রাজস্ব আদায় ও হিসাব ব্যবস্থাপনার অটোমেশনের ফলে এলক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানসমূহ এক ধাপ এগিয়ে গেল। আমরা পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসব।

প্রকল্প পরিচালক আব্দুল খালেক বলেন, এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে রাজস্ব ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালু হলে রাজস্ব আয় ৩ গুণ বৃদ্ধি পাবে। সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড হওয়ার কারণে হিসাব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ে সিস্টেমলস ৩ গুণ কমে যাবে। প্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক কাঠামো রাতারাতি বদলে যাবে ও প্রতিষ্ঠাসমূহ আর্থিকভাবে অনেক সক্ষমতা অর্জন করবে।

সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড্ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপিইএইচএসডিপি (আরবান পাবলিক এনভারমেন্ট হেলথ সেক্টরস প্রোগ্রাম) প্রজেক্ট এর আওতায় দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশনে অটোমেশন প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৭টি সিটি কর্পোরেশনে এ অটোমেশন চালু করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পাইলটিং ভিত্তিতে এ অটোমেশন চালু হল। বাকী ৫ টি সিটি কর্পোরেশনের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি ২০১৩ সালে শুরু করা হয় এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে ২০১৬ সালে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কারিগরি পার্টনার এটিএন-আরকে সফটওয়ার লিমিটেড (ইউএস বেসইড কোম্পানী) এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটিএন-আরকে সফটওয়ার লিমিটেড এর পাশাপাশি তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের এনইউসিডি ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এ বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করবে।

চলমান প্রকল্পের আওতায় দেশের ১১ টি সিটি কর্পোরেশনে অটোমেশন চালু করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অটোমেশন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সকল পৌরসভায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে পদ্ধতিগত শিক্ষা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কর্মশালা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ (কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের), হার্ডওয়্যার ইনস্টলেশন ইত্যাদি সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্য ৫ টি সিটি কর্পোরেশনে হার্ডওয়্যার ইনস্টলেশন ছাড়া বাকী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

পরে মন্ত্রী দুই সিটি কর্পোরেশনের অটোমেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।