Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:১৬ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ডিওডোরেন্ট ও অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট কারণে ক্যান্সার

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

প্রাণঘাতী স্তন ক্যান্সারের ভুক্তভোগী হতে পারেন পুরুষ এবং নারী উভয়েই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য এমন কিছু পণ্য আছে যাদের আমরা নিরীহ মনে করলেও আদতে তারা হয়ে উঠতে পারে স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। এমনই দুটি পণ্য হলো ডিওডোরেন্ট এবং অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট।

অনেকেই মনে করে থাকেন ডিওডোরেন্ট এবং অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট একই জিনিস। আসলে কিন্তু তা নয়। এদের কাজ করার প্রক্রিয়া ভিন্ন। নামে থেকেই বোঝা যায় ডিওডোরেন্ট দুর্গন্ধ দূর করে এবং অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট ঘাম রোধ করে। ডিওডোরেন্ট ব্যবহারে মানুষ ঘামে ঠিকই, কিন্তু ঘামের দুর্গন্ধ টের পাওয়া যায় না। তা বিভিন্ন অ্যান্টিসেপ্টিক এজেন্টের মাধ্যমে ঘামের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে যার ফলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় না। অন্যদিকে অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট লোমকূপ বন্ধ করে দিয়ে ঘাম হওয়া রোধ করে। ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করলেও ঘাম হতে থাকে বলে অনেকে অস্বস্তি বোধ করতে থাকেন। এ কারণে তারা অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট ব্যবহার করেন। তবে ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট, যেটা ব্যবহারেই আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করুন না কেন, স্বাস্থ্যের জন্য দুটিই ক্ষতিকর।

ঘাম হওয়াটা শরীরের একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট ব্যবহার করে এ প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া শরীরের জন্য কোনোভাবেই উপকারি হতে পারে না। শুধু তাই নয়, বেশীরভাগ অ্যান্টি-পার্সপিরেন্টে থাকে অ্যালুমিনিয়াম যা তৈরি করে বিভিন্ন রোগ। বেশ কিছু গবেষণায় অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট ব্যবহার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের মাঝে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। শেভ করার পর পরই যদি ত্বকের ওই এলাকায় অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট ব্যবহার করা হয় তবে ঝুঁকি আরও বেশী থাকে। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা যায় এই অ্যালুমিনিয়াম ত্বকের মাধ্যমে শরীরের সার্কুলেটরি সিস্টেম তথা সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটা মস্তিষ্কেও চলে যেতে পারে এবং বাড়াতে পারে আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি।

আগে মনে করা হতো, অ্যান্টি-পার্সপিরেন্টের তুলনায় ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করার ঝুঁকি কম। কিন্তু ডিওডোরেন্টে থাকা উপাদান প্যারাবেনের সাথেও ব্রেস্ট ক্যান্সারের সংযোগ পাওয়া যায়। প্যরাবেন ব্যবহার করে হয় বহু-সংখ্যক ডিওডোরেন্টে। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমারা যাওয়া এক নারীর শরীর পরীক্ষা করে দেখা যায় তার স্তনের টিস্যুতে প্যারাবেন উপস্থিত ছিলো।

এ তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের রক্ষা করতে আমাদের কি করণীয়? ডিওডোরেন্ট এবং অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়াটা অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু সবার আগে নিজের স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেওয়াটাই উত্তম। অনেকের মতে অ্যান্টি-পার্সপিরেন্টের চাইতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করাটাই বেশী নিরাপদ। কিছু কিছু ব্র্যান্ডের প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ডিওডোরেন্ট পাওয়া যেতে পারে। এগুলো কেনার আগেও লেবেল চেক করে দেখে নিন অ্যালুমিনিয়াম বা প্যারাবেনের মতো ক্ষতিকর উপাদান উপস্থিত কি না। যদি একেবারেই রাসায়নিক ব্যবহার করতে না চান, তবে সমপরিমাণ কর্ন স্টার্চ এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে ভেজা তোয়ালের সাহায্যে বগলে প্রয়োগ করতে পারেন।

সুত্র: http://www.healthyfoodhouse.com/the-causes-of-breast-cancer/
http://www.wisegeek.org/what-is-the-difference-between-antiperspirant-and-deodorant.htm#didyouknowout