ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৩ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ডা.মিলন হত্যার বিচারও একদিন হবে:তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক বলেছেন, ২২ বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মত একদিন এ দেশে ড. মিলন হত্যার বিচারও হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে নিরাপদ করতে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক- জঙ্গী গোষ্ঠি ও তাদের দোসরদের এ দেশের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
তথ্য মন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর টিএসসির সড়কদ্বীপে মিলন চত্বরে ’৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলন দিবসের আলোচনা সভায় একথা বলেন।
শহীদ ডা. মিলন সংসদ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভূইয়া, বেগম লুৎফা তাহের এমপি, অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলাদেশে মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সালান, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মোশতাক হোসেন ও শহীদ মিলনের মা সেলিনা আখতার ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এ দেশে মানবতা বিরোধীদের বিচার ও রায় কার্যকর হচ্ছে। এর আগে ’৭৫-এর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারও এ দেশে সম্পন্ন হয়ে রায় কার্যকর হয়েছে। সাথে সাথে কর্নেল তাহের হত্যার বিচারও হয়েছে। একইভাবে এ দেশে একদিন ডা. মিলন হত্যার বিচারও নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে দেশের সাংবিধানিক ধারা, গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিরাপদ নয়। ’৭১ ও ’৭৫-এর রাজাকার -জঙ্গী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি এ পথে সবচেয়ে বড় বাধা। বিএনপি ও এর নেত্রী এদের রাজনীতিতে হালাল করার চেষ্টা করছেন। তাই এ গোষ্ঠি দেশের চলমান সাংবিধানিক ধারা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রধান হুমকি। এদের রাজনীতি থেকে বিদায় করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জঙ্গীবাদ- মৌলবাদ-সন্ত্রাসবাদকে নির্বাচনের নামে হালাল ও জায়েজ করা হলে এরা গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে গণতন্ত্রেরই পিঠে ছোবল মারতে থাকবে। আর এদের আশ্রয় দিয়ে বিএনপি ও এর নেত্রী গণতন্ত্রের জন্য মহাবিপদ হিসাবে দেখা দিয়েছে।’
হাসানুল হক ইনু বলেন, বর্তমান সরকার দীর্ঘ সামরিক স্বৈরাচার, জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার রেখে যাওয়া জঞ্জাল পরিস্কার করছে। এ জঞ্জাল সরিয়ে সরিয়েই দেশের গণতন্ত্র -স্বাধীনতা- সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিরংকুশ করতে হবে।
তিনি বলেন, ডা. মিলন, শাহজাহান সিরাজসহ সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মহান শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধ করতে হলে স্বৈরতন্ত্রের রেখে যাওয়া নাজায়েজ ও হারাম শক্তি এবং তাদের আশ্রয়দাতা বিএনপি -জামায়াত চক্রকে পরাজিত করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ডা. মিলনের আতœহুতির পর গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে সামরিক স্বৈরাচারের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। আর এর পর আজো মিলনের স্বপ্ন শোষন মুক্ত সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। তবে দেশে সাংবিধানিক ধারা চালু রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন নিশ্চয় দেশে ডা. মিলন হত্যার বিচার হবে। তিনি মিলনের স্বপ্ন পুরণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্পদায়িক প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
আলোচনা শেষে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন