মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সংগৃহীত ফাইল ফটো

ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ওকাসিও কর্টেজ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের একটি প্রক্রিয়া শুরু করার সময় এসেছে।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করার চেয়ে অনেক জরুরি দেশে আইনের শাসন রক্ষা করা। আর সে জন্য অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

তবে ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি অভিশংসনের ঘোরবিরোধী। তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ট্রাম্পের অনুগত সমর্থকরা উজ্জীবিত হবে।

কিন্তু পেলোসির আপত্তি সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসে অভিশংসনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা খোলাখুলিভাবেই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

ওকাসিও কর্টেজ বলেন, ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য এটিই আমাদের মোক্ষম সময়। আমাদের আর তাকে কোনো ধরনের সময় দেয়া ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, ম্যুলার প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

আর সে প্রশ্নে তদন্তের জন্য কংগ্রেস অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারসহ ট্রাম্পের বিভিন্ন সহকর্মী ও আইনজীবীর শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ট্রাম্পের আয়করের হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের নথিপত্রও চাওয়া হয়।

তবে কোনো ধরনের নথিপত্র দেয়া হবে না। এমনকি কংগ্রেসের সামনে কেউ শুনানিতেও অংশ নেবে না বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য- ম্যুলার রিপোর্ট প্রকাশের পর এ বিষয়ে আর কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ ধরনের অসহযোগিতার কারণে যারা এতদিন অভিশংসনের বিরোধী ছিলেন, তারাও বলছেন- কংগ্রেসের দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের কার্যকলাপের ওপর নজরদারি করা।

মিশিগান থেকে নির্বাচিত জাস্টিন আমাস হলেন প্রথম ও একমাত্র রিপাবলিকান সদস্য যিনি পুরো ম্যুলার প্রতিবেদন পাঠের পর অভিশংসনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

আমাসের কথায় উৎসাহী হয়ে একাধিক ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য খোলামেলাভাবেই বলা শুরু করেছেন, আর বিলম্ব নয়।

টেক্সাস থেকে নির্বাচিত সদস্য হোয়াকিম জেফ্রি বলেছেন, অভিশংসন শুরুর সময় এসেছে।

কংগ্রেসের প্রগতিশীল গ্রুপের যুগ্ম সভাপতি ওয়াশিংটন থেকে নির্বাচিত সদস্য প্রমীলা জয়পালও ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণে ক্ষুব্ধ। তার দাবি ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অধিকারকে খর্ব করছে।