মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসনের লক্ষ্যে কংগ্রেসে তোলা একটি প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে। চারজন অশ্বেতাঙ্গ নারী কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বর্ণবাদী মন্তব্যে নিন্দা জানিয়ে কংগ্রেসে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাসের পর বুধবার টেক্সাসের ডেমোক্রেট এমপি আল গ্রিন অভিশংসনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

কিন্তু প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদের পর্যাপ্ত এমপির সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ডেমোক্রেটিক পার্টির ১৩৭ জন সদস্যসহ মোট ৩৩২ সদস্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। পক্ষে ভোট দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির মাত্র ৯৫ জন সদস্য। খবর বিবিসির।

ট্রাম্পের অভিশংসনে এটা ছিল আল গ্রিনের তৃতীয় চেষ্টা। তিনি ২০১৭ ও ২০১৮ সালে একই প্রস্তাব এনেছিলেন। ২০১৭ সালে ৬৬ জন ও ২০১৮ সালে ৫৮ জন ডেমোক্রেটিক সদস্য সমর্থন জানান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে নিজের জন্য বিজয় বলে অভিহিত করেছেন।

নর্থ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে এক জনসভায় তিনি বলেন, অভিশংসনের হাস্যকর চেষ্টা শেষ। অনেক হয়েছে, আর নয়। এক টুইটবার্তায় বলেন, ফের আর কোনো প্রেসিডেন্টের বেলায় এমনটি হতে দেয়া ঠিক হবে না।

আল গ্রিনের উত্থাপিত প্রস্তাব যে ব্যর্থ হবে, এতে কোনো সন্দেহ ছিল না। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও দলের শীর্ষ নেতারা গোড়া থেকেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিলেন। কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে তদন্ত করছে, তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিশংসনের প্রস্তাব উত্থাপন করতে চাইছিলেন না। ২৪ জুলাই বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার কংগ্রেসের সামনে যে সাক্ষ্য দেবেন, পেলোসি তার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। আল গ্রিন অবশ্য সে যুক্তি গ্রহণযোগ্য মনে করেননি।

গতকাল তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে বর্ণবাদী অবস্থান নিয়েছেন, এর প্রতিবাদ না করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের ব্যাপারে আমাদের কার কী অবস্থান, পৃথিবীর সম্মুখে তা স্পষ্ট করে জানানোর সময় এসেছে।

এদিকে সৌদি আরব ও অন্যান্য মিত্র দেশের কাছে ট্রাম্পের ৮০০ কোটির বেশি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি আটকে দিয়েছে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়েছে। বুধবার ব্যাপারে ভোটাভুটিতে অংশ নেন প্রতিনিধি পরিষদের আইনপ্রণেতারা।

আইনপ্রণেতাদের নিন্দা সত্ত্বেও এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছরের গোড়ার দিকে নেয়া জরুরি পদক্ষেপের আওতায় ট্রাম্পের ঘোষিত বিতর্কিত অস্ত্র বিক্রি ঠেকাবে, এমন তিনটি প্রস্তাব আইনপ্রণেতারা অনুমোদন দিয়েছেন।

আইনপ্রণেতাদের অনেকে গত বছর সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যায় সৌদি আরবের ভূমিকা প্রশ্নে রিয়াদের সমালোচনা করেন। অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দেয়া এসব প্রস্তাব এরই মধ্যে সিনেটে পাস হয়েছে। প্রস্তাবগুলো এখন হোয়াইট হাউসে যাবে। সেখানে ট্রাম্প এ বিষয়ে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন কংগ্রেস খুব সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এ অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিতে পারলেও ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে প্রায় ৫০টি ভোট পাওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের কাছে বিভিন্ন ধরনের ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করতে চাইছেন।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরালো করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে দেশটিতে নতুন করে ৫০০ মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উত্তর অংশে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে পাঁচশ’ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তারা জানিয়েছেন, বিমানঘাঁটিতে এরই মধ্যে অল্পসংখ্যক সেনা রয়েছে। ওই বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন আমেরিকার তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিমানঘাঁটির উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।