ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:০৫ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নজিবুর রহমান
নজিবুর রহমান, ফাইল ফটো

ট্যাকসেস ট্রাইব্যুনালে কোন হস্তক্ষেপ নেই : এনবিআর চেয়ারম্যান

ট্যাকসেস আপীলাত ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

তিনি বলেন,‘ ট্যাকসেস আপীলাত ট্রাইব্যুনাল একটি স্বাধীন সত্তা। এখানে কোন হস্তক্ষেপ নেই। যাদেরকে এখানে পদায়ন করা হয়েছে,তারা যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ট্যাকসেস আপীলাত ট্রাইব্যুনালের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ট্যাকসেস আপীলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট ড. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনালের সদস্য রঞ্জন ভৌমিক,ইন্সটিটিউট অব চাটার্ড একাউন্ট্যান্টস আব বাংলাদেশ (আইসিএবি) সভাপতি আদিব এইচ খান,বাংলাদেশ ট্যাক্স ল ইয়ার্স এসোসিয়েশনের (বিটিএলএ)সভাপতি মনিরুল হুদা,সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর মজুমদার,বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই)পরিচালক হাসিনা নেওয়াজ, ঢাকা ট্যাকসেস বারের সভাপতি খোরশেদ আলম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

আয়কর আইনজীবিদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন,বিচার বিভাগের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য পেশাজীবিদের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ গঠন করা হবে।সেখানে অভিজ্ঞ হিসাববিদ ও আয়কর আইনজীবিদের রাখা হবে।

তিনি বলেন,গতবছর আমরা ট্যাকসেস আপীলাত ট্রাইব্যুনালে বিচার বিভাগের প্রতিনিধি চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছি।আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি পেয়ে যাবো।

নজিবুর রহমান বলেন,আমরা পূরণো ধ্যান ধারনা থেকে বেরিয়ে এসে জনগনের মধ্যেকার করভীতি দূর করার প্রয়াস গ্রহণ করেছি।সকলের সহযোগিতায় আমরা এতে সফলও হয়েছি।এজন্য আয়কর মেলা এখন উৎসবে পরিনত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ট্যাকসেস আপীলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট ড. মাহবুবুর রহমান বলেন,আমরা এখন অধিকতর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি।কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ বা চাপ নেই।

তিনি জানান,বিগত দুইবছরে ট্যাকসেস ট্রাইব্যুনালের মামলা নিস্পত্তির সংখ্যা প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মামলা নিস্পত্তির সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৮৬৬,২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৫ এবং সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৪০৫।

উল্লেখ্য,বর্তমানে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত প্রায় ২২ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বিটিএল এসভাপতি মনিরুল হুদা বলেন, ট্যাকসেস আপীলাত ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চগুলো কেবলমাত্র কর কর্মকর্তাদের দিয়ে গঠন করা হয়ে থাকে।অথচ আইনে রয়েছে বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি,হিসাববিদ,আয়কর আইনজীবিসহ মোট ৮ পেশার অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে বেঞ্চ গঠন করা যায়।তিনি ট্রাইব্যুনালে আরো স্বচ্ছ ও নিরেপক্ষতা প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধিদসহ অন্যান্য পেশার অভিজ্ঞদের দিয়ে বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাব করেন।

ঢাকা ট্যাকসেস বারের সভাপতি খোরশেদ আলম রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং মামলা দ্রুত নিস্পত্তির জন্য আয়কর বিভাগে জনবল বাড়ানোর সুপারিশ করেন।