ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৫৫ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ট্যঙ্কারডুবি পরিকল্পিত, মুখ সংযত করুন হাসিনাকে-খালেদা

সুন্দরবনে ট্যঙ্কারডুবির প্রসঙ্গ খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সুন্দরবনকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এটা করা হচ্ছে। কারণ, রামপালে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হবে, বিশেষজ্ঞরা বলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। তাই তারা সুন্দরবনকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুখ সংযত করে কথা বলতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরআগে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘ কুপুত্রকে জিহ্বা সামলে কথা বলতে বলেন।’

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘যা বলেন, নিজের জিহ্বা ঠিক করেন, নিজের মুখটা সামাল দেন। আপনি যেসব ভাষায় কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেব আপনার মুখে এসব কথা শোভা পায় না। ’ ছাত্রলীগ-যুবলীগকেও সামলাতে বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এ সংগঠনকে ‘গুণ্ডালীগ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের সেই শিক্ষা দেইনি। আমাদের সন্তানেরা শহীদ জিয়ার আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠেছে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘৯০-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (ডাকসু) এবং তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের’ উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা ১০ মিনিটের কিছু পরে তিনি এ কনভেনশনে যোগ দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা এখন দেশের ইমেজ নষ্ট করছে। আমাদের গালি-গালাজ করতে করতে এখন বিদেশিদেরও গালি-গালাজ করতে শুরু করেছে। যা মুখে আসে তাই বলতে শুরু করেছে। আগে নিজেদের মুখ সামলান। আমরা যা বলি, সত্য বলি, তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে বলি।’

Khaleda18সুন্দরবনে ট্যঙ্কারডুবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এটা করা হচ্ছে। কারণ, রামপালে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হবে, বিশেষজ্ঞরা বলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। তাই তারা সুন্দরবনকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে।’

বেগম জিয়া বলেন, ‘দেশ আজ এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। বড় বড় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে বিদেশ চলে যাচ্ছেন। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করে বলেছেন – আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা অর্থ এই অবৈধ, অনির্বাচিত সরকার।’

খালেদা বলেন, ‘৪ হাজার ৮০০ জন ওএসডি হয়ে বসে আছে। আর অসংখ্য চাকরিচ্যুত হয়েছে। তাদের অপরাধ তারা বিএনপি করে।’

সচিবালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটা ধুয়া তুলে কিছু লোককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এক সময় আমিও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। আমার সঙ্গে অফিসাররা সাক্ষাৎ করলে ক্ষতি কী? আপনি সন্ত্রাসী, অপরাধী, জঙ্গিদের সঙ্গে বসে চা খেলে কিছু হয় না। আর আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেই যত সমস্যা।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজ বিচারপতিরা চেহারা দেখে, দল দেখে বিচার করছে। কেউ আওয়ামী লীগ করলে তার সকল মামলা খালাস হয়ে যায়। আমরা বলেত চাই- হাসিনার মামলাগুলোকে পুণরায় সচল করতে হবে। আমাদের মামলা চলবে আর হাসিনার মামলা চলবে না, তা হবে না।’

বিচারপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা হাসিনার কথা মতো, আওয়ামী লীগের কথা মতো চললে সেটা ঠিক হবে না। আপনারা জনগণের পক্ষে থাকুন। ভুলে যাবেন না আপনারাও মানুষ। একদিন মরতে হবে। আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবেন? অন্যায়ভাবে মানুষকে ফাঁসি দিলে আল্লাহর কাছে গিয়ে ১০ গুণ বেশি সাজা ভোগ করতে হবে। আপনারা রাতে যখন ঘুমান তখন একটু চিন্তা করবেন।’

সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে ‘৯০-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (ডাকসু) এবং তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য’ সাবেক ও বতর্মান ছাত্রনেতাদের নিয়ে এ কনভেনশন আয়োজন করে। কনভেনশন শুরু হয় সকাল সোয়া ১০টায়। কনভেনশনে সারাদেশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারা যোগে দিয়েছেন।

এতে সভাপতিত্ব করছেন ঢাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান। পরিচালনা করছেন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের অনেকেই এখন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবীব, ছাত্রইউনিয়নের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।