ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:২৫ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

টিকফা ফোরামের আলোচনাতেই জিএসপি ফিরে পাবার আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

টিকফা ফোরামের আলোচনাতেই জিএসপি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ওই ফোরামের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপে (টিপিপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত সচিব (মহাপিরিচালক, ডব্লিউটিও সেল) অমিতাভ চক্রবর্তী, অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) জহিরউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। তাই টিকফার আসন্ন মিটিং-এ বাংলাদেশ স্থগিতকৃত জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাবে। বাংলাদেশ আশা করছে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো আপত্তি থাকবে না।
ব্রিফিংয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটও আশ্বস্ত করেছেন, শীগ্রই বাংলাদেশ জিএসপি ফিরে পাবে। যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে জিএসপি ফিরিয়ে দিতে চায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও মনোযোগী হতে চায়। শিগগিরই এর প্রতিফলন পাওয়ার আশাও করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে  টিকফা ফোরামের মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে, পররাষ্ট্র এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিবসহ মোট পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল টিকফা ফোরামের ওই মিটিংয়ে অংশ গ্রহণ করবে।
তোফায়েল আহমেদ জানান, টিকফা ফোরামের-মিটিংয়ের পর বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিতকৃত জিএসপি ফিরে পাবার আশা করছে। কারণ ওই ফোরামে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে প্রস্তাব করা হবে।
সপক্ষ যুক্তি দিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতের শিল্প কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক মানের ও সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইতিমধ্যে শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে কারখানার শ্রমিক কর্মচারিদের অধিকার, কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক খুবই ভালো।
বাণিজ্য মন্ত্রী দাবি করেন, জিএসপি না দিলে টিকফা চুক্তি অর্থহীন হয়ে পড়বে।
মন্ত্রীর এমন দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, টিকফা চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়। তবে জিএসপি না পেলেই সব শেষ হয়ে যাবে না বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ মাত্র ১ শতাংশেরও কম জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। এটি অর্থনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির কোনো কারণ না। কেননা জিএসপি ছাড়াই এ বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ছে। অর্থনৈতিকভাবে সেটি গুরুত্ব বহণ না করলে ভাবমূর্তির জন্য জিএসপি ফিরে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েই চলছে। চলতি অর্থ বছরের গত চার মাসের রফতানি বৃদ্ধি হয়েছে ১৭ ভাগ।