ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:১৯ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

টানা কর্মসূচি নিয়েই আন্দোলনে নামছে বিএনপি

বিগত ৫ জানুয়ারি ‘বিরোধী দলবিহীন’ জাতীয় নির্বাচনের পর ধপ করে থেমে যাওয়া আন্দোলন ফের চাঙ্গা হচ্ছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আন্দোলনে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেশ কয়েক মাস ধরে চলা দলটির জনসংযোগমূলক কর্মসূচি এবার দ্রুত নির্বাচনের ‘এক দফা’ দাবিতে কঠোর রূপ লাভ করছে। ‘স্বল্পমেয়াদি’ ও ‘পরিকল্পিত’ একটি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছতে বেগম খালেদা জিয়া সাজিয়ে নিচ্ছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দুই-তিন মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করবে। সরকারকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে এ সময়ে নেয়া হবে বিভিন্নমুখী কৌশল। আন্দোলনের এই পথে ‘কার্যকর কূটনৈতিক সমর্থন’ পেতেও থাকবে দলীয় তৎপরতা।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের ধরন কী হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে প্রতিদিনই তিনি এ নিয়ে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে আন্দোলন কিভাবে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়েই তিনি কথা বলেছেন। ঢাকা মহানগরসহ শীর্ষ নেতাদের তিনি বারবার সতর্ক করছেন আন্দোলন যাতে ব্যর্থ না হয়। আদায় করছেন প্রতিশ্রুতি।
জানা গেছে, আগামী ৫ জানুয়ারি ঘিরে আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। ওই দিন ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকায় সমাবেশের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে ৩ ও ৫ জানুয়ারি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়া পল্টন অথবা শাপলা চত্বরে সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়ে গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এ দুইটি সমাবেশ হবে প্রধানত দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে। যদি সমাবেশের অনুমতি দেয়া না হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই ডাকা হতে পারে টানা ৭২ ঘণ্টা হরতাল। এসব কর্মসূচি সামনে রেখে গতকাল নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলের ঢাকা মহানগরের নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার পতনের আন্দোলনে একজোট হয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় ২০ দলের ‘সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী আন্দোলনে জোটবদ্ধ হয়ে একত্রে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির নতুন এ আন্দোলন স্বল্প সময়ের মধ্যে বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগের তিন মাসের মতো অবস্থায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে। ওই তিন মাস টানা হরতাল, অবরোধ পালন করেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।
বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা গতকাল বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে একটা কথাই বারবার বলা হচ্ছে, তা হলো ঢাকা থেকেই আন্দোলনের প্রথম ধাক্কাটা দিতে হবে। ঢাকায় আন্দোলন অব্যাহত রাখতে পারলে সারা দেশে তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়বে। সরকারের পক্ষে জনগণের সেই আন্দোলন কোনোভাবেই আর সামলানো সম্ভব হবে না।’ তিনি আরো বলেন, বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, এবার তার অর্ধেক হলেও সরকার দিশেহারা হয়ে যাবে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ভাবনা অনুযায়ী আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের দাবি আদায় করতে না পারলে, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে পড়তে পারে। নেতাকর্মীরা দীর্ঘমেয়াদে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারেন। মামলা-হামলার ঘানি টানতে হতে পারে শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাদের।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেছেন, এবার তীব্র আন্দোলন হবে। আমাদের নেত্রী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। ইনশাল্লাহ আন্দোলন হবে। নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে এ দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। ভোট ছাড়া আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না।
বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, ৫ জানুয়ারি বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনের পর সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতিবাচক মনোভাবের এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারাও গণতন্ত্রের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির একটি সন্তোষজনক সমাধান আশা করছে। বিএনপি এ কারণে আলোচনার দরজা খোলা রেখেই নতুন আন্দোলনে নামছে।
জানা গেছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ অটুট রাখতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে একটি টিম কাজ করছে। আন্দোলন-কর্মসূচির যৌক্তিকতাও তাদের অবহিত করা হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা বলেছেন, বিএনপি আবার আন্দোলন শুরু করলে আন্তজার্তিক ‘সমর্থন’ তাদের পক্ষেই থাকবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেবে।
জানুয়ারি থেকে আন্দোলনের ঘোষণায় ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলছেন, রাজপথে আন্দোলন করার সক্ষমতা বিএনপির নেই। আন্দোলনের নামে কোনো অরাজকতা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।