Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৪ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

টমাস এ শ্যানন ও নিশা দেশাই ঢাকা আসছেন কাল

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতিসংক্রান্ত নতুন আন্ডার সেক্রেটারি টমাস এ শ্যাননের আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমনের ইস্যু অধিক গুরুত্ব পেতে পারে। আগামীকাল রোববার প্রায় ২৪ ঘণ্টার সফরে তিনি ঢাকা আসছেন। বিশ্বব্যাপী উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তার এই সংক্ষিপ্ত সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। টমাস এ শ্যাননের সফরসঙ্গী হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালও ঢাকায় আসছেন।
জানা গেছে, ওয়াশিংটন থেকে রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছেই ব্যস্ত দিন কাটাবেন শ্যানন। সেদিনই দুপুরের দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গেও মার্কিন উচ্চ পর্যায়ের এই কর্মকর্তার বৈঠক হবে। দুপুরের পর ‘বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস’ (বিস) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখবেন। সেমিনারের বিষয়বস্তু ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক : বৈশ্বিক ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করা’। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আবদুর রহমান। মুক্ত আলোচনা ছাড়াও সেমিনারে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বক্তব্য রাখবেন। সভাপতিত্ব করবেন বিস চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ। সন্ধ্যায় শ্যাননের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করবেন পররাষ্ট্র সচিব।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, শ্যাননের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি বৈঠকের চেষ্টা চলছে। তবে বৈঠকের বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
নিশা দেশাই বিসওয়াল ভারত সফর শেষে ঢাকায় শ্যাননের সফরসঙ্গী হিসেবে যোগ দেবেন। রোববার রাতেই নিশা ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। তবে শ্যানন সোমবার সকালে কলম্বোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্যাননের বাংলাদেশ সফরকালে আলোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সন্ত্রাস দমন, সহিংস উগ্রবাদ দমন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বাণিজ্য ইস্যুতে সাধারণত আলোচনা হয়ে থাকে। এবারের আলোচনায়ও এসব বিষয়ই প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা যায়।
টমাস এ শ্যানন এমন এক সময়ে বাংলাদেশে আসছেন যখন গোটা বিশ্ব উগ্রবাদ নিয়ে ব্যাপকভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের উত্থানের কারণে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা বিশ্বের সর্বত্র। সম্প্রতি প্যারিসে আইএসের হামলার পর এই ইস্যুটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিচ্ছিন্নভাবে বিদেশী নাগরিক হত্যা, প্রকাশক ও ব্লগারদের হত্যা এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আইএসের প্রতি সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী বাংলাদেশে সক্রিয় থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশংকা প্রকাশ করছেন। তবে এ দেশে আইএসের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে আসছে বাংলাদেশ সরকার। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এক্ষেত্রে চলমান সহযোগিতার ধরনে কোনো পরিবর্তন আনার প্রস্তাব ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেয়া হয় কিনা সেদিকেই সবার দৃষ্টি থাকবে বলে অনুমান করা যায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও সফরকালে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply