Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৩৮ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ঝিনাইদহে ‘সেবায়েতকে’ কুপিয়ে হত্যা

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুপুর-কাষ্টসাগরা গ্রামের রাধামদন গোপাল মঠের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস বাবাজিকে (৬২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শ্যামানন্দ দাসের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার মুসুরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম নাম কিরণ চন্দ্র।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাজ কুমার জানান, ভোরে তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী মঠের সামনে আসেন। এ সময় মঠের গেটের পাশে গাছ থেকে ফুল তুলছিলেন শ্যামানন্দ দাস।
দুর্বৃত্তরা তার ঘাড়ে, পিঠে ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। মোটরসাইকেলের আরোহীদের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। মাথায় ছিল ক্যাপ। মাঝের জনের হাতে ছিল একটি রামদা।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মঠ পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মণি কুমার রায় বলেন, গত তিন বছর ধরে সেবায়েতের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন শ্যামানন্দ। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। পূজা-অর্চনায় সব সময় ব্যস্ত থাকতেন। তার বাইরে যাওয়া-আসা খুব কম ছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলতাফ হোসেনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।
এসপি আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কিছুদিন আগে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি হত্যার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
গত ৭ জুন একই উপজেলার করাতিপাড়া শ্মশানঘাট এলাকায় মন্দিরে পূজা দিতে যাওয়ার সময় পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে (৬৫) গলাকেটে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা।
এরপর ১০ জুন পাবনার সদর উপজেলার হিমাইতপুর গ্রামের শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ সেবাশ্রমের (হিমাইতপুর ধাম) সেবায়েত নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে (৬২) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
আর ৫ জুন সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় সুনীল গোমেজ নামে এক খ্রিস্টান দোকানিকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
একই দিন চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এরপর নড়েচড়ে বসে আইনশৃংখলা বাহিনী। জঙ্গি দমনে বিশেষ অভিযানে দুই শতাধিক জঙ্গিসহ অন্তত ১৪ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে হিন্দু পুরোহিত হত্যাকাণ্ডের পর আইএস কিংবা আল কায়দা দায় স্বীকার করলেও জঙ্গি দল দুটির অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে।