ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:২২ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

অটোরিকশা শ্রমিকদের কান্না
তিনবেলা ঠিকমত খাবার জোগাইতেও পারিনা। পোলাপানের ল্যাহাপড়ার খরচ দিতে পারিনা। আমরা এখন নাখাইয়্যা আছি, অটো না চালাইতে না দেওয়ায় বেকার হইয়া গেছি 'বলছিলেন চালকরা

ঝালকাঠিতে অটোরিকশা শ্রমিকদের কান্না

ঝালকাঠিতে  উচ্চ আদালতের নির্দেশে মহাসড়কে থ্রিহুইলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অভ্যন্তরিন সড়কে চলছিল অটোরিকশা। দুই হাজার অটোরিকশা প্রতিদিন শহরের মধ্যে চলাচল করে আসছিল। এই অটোরিকশার রোজগারের ওপর নির্ভশীল মালিক ও চালকদের পরিবার। একটি অটোরিকশায় দুইটি পরিবারে জীবীকা নির্বাহ হচ্ছিল। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স নবায়নের অজুহাতে দেখিয়ে প্রায় দেড় হাজার অটোরিকশা শহরে চলাচল ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন অটোরিকশা চালকরা। ক্ষুব্ধ ও হতাশাগ্রস্ত চালকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। সন্তানদের পড়ালেখার খরচতো দূরের কথা তিনবেলা খাবারও তাদের জুটছেনা।

জানাযায়, একই ভাবে পার্শ্ববর্তী জেলা সমুহেও মহাসড়কে থ্রিহুইলার জাতীয় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু যাত্রীদের যাতায়াতের বিকল্প পরিবহণ অটোরিকশাকে বন্ধ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রতিদিন ঝালকাঠি শহরে প্রায় দুই হাজার অটোরিকশা যাত্রী পরিবহণ করে আসছিল। স্থানীয় অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে কম খরচে যাতায়াতের জন্য অটোরিকশাকে বেছে নেন যাত্রীরা। ২০ টাকা হলেই শহরের এক প্রাপ্ত থেকে অন্য প্রান্ত যাওয়া যেত। এতে যেমন যাত্রীদেরও উপকার হয়, তেমনি প্রতিদিন ৮০০-১০০০ টাকা রোজগার করছিলেন অটোরিকশা চালকরা। এ উপার্জনের অর্থ দিয়ে অটোরিকশা চালকরা ছেলে মেয়ের পড়ালেখা ও সংসারের খরচ বহন করতেন। এ অবস্থায় ঝালকাঠি আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি বৈঠক করে পৌর কর্তৃপক্ষকে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক (অটোরিকশা) নতুন রেজিস্ট্রেশন বন্ধ ও রেজিস্ট্রেশন নবায়ন বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেয়। গত বছরের ৩ আগস্ট জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সভাপতি মো. মিজানুল হক পৌরসভার মেয়রের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রেরণ করেন। পৌর কর্তৃপক্ষ ২৪ সেপ্টেম্বর চিঠিরপ্রাপ্তির কথা স্বীকার করে অটোরিকশা চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দুই হাজার অটোরিকশার মধ্যে লাইসেন্স নবায়নকৃত মাত্র ৪৮৮টি অটোবাইক চালকদের তালিকা পুলিশের কাছে দেয় পৌরসভা। বাকি অন্য সব অটোরিকশাগুলো অবৈধ বলে মৌখিকভাবে জানানো হয়। এর পর থেকে শহরে শুধুমাত্র ৪৮৮টি অটোরিকশা বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। আর বন্ধ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার অটোরিকশা। ফলে যাত্রীদের যাতায়াতের বিকল্প পরিবহণ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

অটোরিকশা চালকরা অভিযোগ করেন, থ্রিহুইলার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল বন্ধ, কিন্তু অভ্যন্তরিন সড়কে চলাচল বন্ধ নয়। পৌর কর্তৃপক্ষ অজুহাত দেখিয়ে নতুন লাইনেন্স দিচ্ছেনা এবং লাইসেন্স নবায়নও করছেনা। এতে শহরের মধ্যে তারা অটোরিকশা চালাতে পারছেনা।

অটোরিকশার মালিক কাজল মুন্সি বলেন, আমি অটোরিকশাটি ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন চারশ টাকা পাই। চালক রোজগার করে আরো চারশ টাকা। সবমিলিয়ে দুইটি পরিবারের সংসার চলে একটি অটোরিকশা দিয়ে। পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের নতুন লাইসেন্সও দিচ্ছেনা, পুরনো লাইসেন্স নবায়নও করছেন না। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অটো চালকরা। তারা না খেয়ে দিন পার করছে।

অটো রিকশা চালক হরিদাস চন্দ্র মন্ডল আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় চারমাস অটো চালাইতে পারিনা। ক্যামনে সংসার চালামু। তিনবেলা ঠিকমত খাবার জোগাইতেও পারিনা। পোলাপানের ল্যাহাপড়ার খরচ দিতে পারিনা। মোগো অটো চালাইতে দেলে মেয়রের জন্য দোয়া করমু।

অটো চালক আমির হোসেন বলেন, মেয়র একজন ভাল মানুষ, আমরা তাকে ভোট দিয়া বানাইছি। আমাগো দিকেওতো তার চাইতে অইবে। আমরা এখন নাখাইয়্যা আছি, এটা তার বিবেচনা করা উচিত। অটো না চালাইতে না দেওয়ায় বেকার  হইয়া গেছি।

ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং ঝালকাঠি সড়ক পরিবহন কমিটির সভাপতির চিঠি পেয়ে আমি নতুন লাইসেন্স ও লাইসেন্স নবায়ন করছিনা। ভবিষ্যতে কোন নির্দেশনা আসলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। -ঝালকাঠি থেকে ‘কে এম সবুজ।’