ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:৪৪ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

হানিফ ও তারেক জিয়া
মাহবুব-উল আলম হানিফ ও তারেক জিয়া

জয়কে নিয়ে মিথ্যা নাটকের ‘রচয়িতা তারেক’- হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপির সাথে মোসাদের ষড়যন্ত্রকে আড়াল করতেই সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘কখনই মেন্দি এন সাফাদির সাথে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বৈঠক বা সাক্ষাত হয়নি। এই সাক্ষাত নাটকের রচয়িতা হলো বিএনপি নেতা তারেক রহমান।’

আওয়ামী লীগের এ নেতা আরো বলেন, জি-৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভাবনীয় সফলতাকে ম্লান করারই এ নাটকের অন্যতম উদ্দেশ্য।

মাহবুব-উল আলম হানিফ আজ বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্প্রতি বিবিসি বাংলায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দফতর সম্পাদক এডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন ও একেএম এনামুল হক শামীম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে ইসরাইলি নাগরিক মেন্দি এন সাফাদির সাথে বৈঠকের যে সংবাদটি ‘বিবিসি বাংলা’ অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে অসত্য, কল্পিত ও মিথ্যাচারে পরিপুষ্ট।

তিনি বলেন, ‘আমরা খ্যাতনামা এ প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনে ক্ষুদ্ধ, ব্যথিত, মর্মাহত ও হতাশ। কেননা এমন খবর প্রচারের আগে তার বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ছিল।’

এ ধরনের সংবাদ প্রচারে ভবিষ্যতে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, প্রতারক ও জালিয়াতদের ভিত্তিহীন বানোয়াট গল্পের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ পরিবেশন করলে তাদের প্রতিষ্ঠানগত মর্যাদা, সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাবে এবং জনগণ সত্য মিথ্যার মধ্যে ও বাস্তবতা আর অপপ্রচারের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সে সম্পর্কে বিভ্রান্ত হবে।

হানিফ বলেন, বিবিসি অনলাইনে জ্যাকব মিল্টন নামে যে প্রতিবেদকের নাম উল্লেখিত হয়েছে তার প্রতারণার কথা নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং এ নামে বিবিসির কোন প্রতিবেদক নেই বলে জানা গেছে। অথচ তার নামেই এটি প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এ সংবাদটির উৎস সূত্র হলেন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জাহিদ এইচ সরদার সাদী। তিনি ইতোপূর্বে ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন।

হানিফ বলেন, এ মিথ্যা বিবৃতির প্রতিবাদে তারা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। এতে জাহিদ এইচ সরদার সাদীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে যেতে হয়েছিল।

বিএনপি জাহিদ এইচ সরদার সাদীকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের ব্যবধানে জাহিদ আবার প্রতারণামূলক কাজে লিপ্ত হয়েছে। যার অন্যতম কারণ হলো ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সাথে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের রাষ্ট্রদ্রোহের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার হীন মানসিকতা।

এ বিষয়ে কোন প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ইতোমধ্যে বিবিসির কাছে এ সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তারা এ সংবাদের বিষয়ে তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে বিবিসির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এবং তাদের সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হানিফ আরো বলেন, বিবিসির গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার স্বার্থে তাদের উচিত কারা এ ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত তা জাতির সামনে প্রকাশ করা।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যা, বিদেশী নাগরিক হত্যা, মুক্তমনা লেখকদের হত্যা করে সরকার পতনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে হাত মিলিয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দান, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও ব্যবসায়িক সুযোগ দেয়ার শর্তে মোসাদের সাথে সরকার উৎখাতের সন্ধি স্থাপন করেছে। আর এজন্যই আসলাম চৌধুরীর সাথে মেন্দি এন সাফাদির বৈঠক হয়েছে।

হানিফ আরো বলেন, আসলাম চৌধুরীর সাথে মেন্দী এন সাফাদির বৈঠকের আগে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।