শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:০৮ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

“জয়কে নিয়ে ডলার পাচারের মন্তব্যে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা”

khaleda35

১লা মে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ

জয়কে নিয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ সম্পর্কিত মন্তব্য করায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার ৮ নম্বর আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় এক কোটি টাকার মানহানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি করেন-‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ মুরাদনগর উপজেলা কমিটির সভাপতি শরিফুল আলম চৌধুরী।

আজ দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরীর আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। বিচারক মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কুমিল্লা জেলার তথ্য কর্মকর্তাকে আদেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এসটি আহমেদ ফয়সাল বলেন, রোববার মে দিবসের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় বাদী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছে। এতে বাদীর মানহানি হয়েছে। এ কারণে বাদী এ মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১লা মে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, সাংবাদিক শফিক রেহমানকে সাংবাদিক পরিচয়ে ভোরবেলা ধরে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি রাজনীতি করেন না। আমাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ রাখতেন। শফিক রেহমানের দোষ কি? আজকে স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিদেশে নিয়ে গেছেন। এর কাগজপত্রই তিনি সংগ্রহ করেছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি এটা করতেই পারেন। তিনি কিন্তু কোথাও সেটা প্রচার করেননি, লেখেননি। সেই কাগজ তারা নিয়ে গেছেন। শফিক রেহমানকে ধরা না হলে এই কথাটা আপনারা জানতে পারতেন না। তারা মনে করেন, কাগজগুলো নিয়ে গেলেই বোধ হয় শেষ। কিন্তু না। এই কাগজ শুধু বাংলাদেশে না, আরো অনেক জায়গায় আছে। এটা আর চাপা দেওয়া যাবে না। শফিক রেহমানের সঙ্গে মাহমুদুর রহমানকে জড়ানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, তারা নকি জয়কে গুম ও খুন করতে চেয়েছিল।

khaleda33

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাগপা’র ৩৬তম জাতীয় কনভেনশনে প্রধান অতিথি খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া ঠিক একই অভিযোগ করেছিলেন আগের দিন ৩০ এপ্রিল। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাগপা’র ৩৬তম জাতীয় কনভেনশনে প্রধান অতিথির ভাষণে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জয়কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে একটি মামলার রায় নিয়ে এখন আমাদের দেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কি সে মামলা? এফবিআইয়ের একজন এজেন্টকে ঘুষ দিয়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশী তরুণ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ব্যাপারে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলো। সেই মামলার নথিতেই আছে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের একটি একাউন্টেই আড়াই হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ তিনশো মিলিয়ন ডলার জমা আছে।
এই টাকা কোথা থেকে গেছে? এই টাকার উৎস কী? এভাবে তাদের আরো কতো টাকা আছে, বাংলাদেশের মানুষ তা জানতে চায়? বাংলাদেশের মানুষ মনে করে এই টাকা বাংলাদেশের জনগণের টাকা। এভাবে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত বিপুল টাকা বিদেশে পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। এ টাকা ফিরিয়ে আনা দরকার। কিন্তু এ টাকার ব্যাপারে সরকার নীরব।
তারা এই টাকার কথা ধামাচাপা দিতে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে।