Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৫৯ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

‘জ্বালানি নিশ্চয়তা পেতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের পরামর্শ’

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী শিল্প উদ্যোক্তাদের জ্বালানি নিশ্চয়তা পেতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) শিল্প স্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে আপনারা এসইজেডে শিল্প স্থাপন করুন। সেখানে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ সব ধরনের সেবা সরবরাহ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিব। তাছাড়া শিল্পের জন্য জমির সংকট রয়েছে। এসইজেডে বিনিয়োগ করলে সেক্ষেত্রেও সুবিধা পাবেন।
শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজনে ‘৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শিল্প খাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে চেম্বারের সভাকক্ষে ডিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য রহমান মোর্শেদ। এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ, সেলিম আকতার খান সহ আরও অনেকে।
ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। বিদ্যুতের দাম কিছুটা বেশি হলেও এ খাতের বিনিয়োগকে সামাজিক খাতের বিনিয়োগ হিসেবে ভাবতে হবে। কারণ বিদ্যুতের কারণেই প্রকারান্তরে আমাদের গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীদের স্বাস্থ্য উন্নয়ন, সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, শিক্ষা মৃত্যুর হার হ্রাস এবং নারীদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়ছে। অতএব বিশ্বব্যাংক ও এডিবি যা-ই বলুক এ খাতের আমাদের কিছুটা ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে। তাছাড়া আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কারণে খরচ কিছুটা বেড়েছে।
দুই বছরের মধ্যে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার পূর্ব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৫ বছরে ১০০টি কূপ খনন করা হবে। এছাড়া জ্বালানি খাতে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে গবেষণাতেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ আমদানির পাশাপাশি আমরা এলএনজি আমদানির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাছাড়া মিয়ানমার থেকেও গ্যাস আমদানির প্রচেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় গভীর সমুদ্র এলাকায় কূপ খননে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আগ্রহ কমে গেছে। এরপরও বর্তমান সরকার সমুদ্র এলাকায় নতুন নতুন কূপ অনুসন্ধানে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
সেমিনারে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম তামিম। নিবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম, ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডীন ড. শামসুল আলম এবং বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ইমরান করিম।