শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:০২ ঢাকা, শনিবার  ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

নির্বাচন কমিশন (ইসি)

জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণার সময়সীমা আজই শেষ

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) নিবন্ধিত দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে যে কোনো একটি দলের প্রতীক ব্যবহার করতে চাইলে তা তফসিল ঘোষণার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে ইসিকে জানানোর বিধান আছে। আজ রোববার শেষ হচ্ছে সে সময়সীমা। এ ক্ষেত্রে সময় বাড়ানো হবে কি না, জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আইনে বাধ্যবাধকতা আছে, তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দল যারা জোটবদ্ধ আছেন কোন প্রতীকে করবেন, স্পষ্টভাবে তারা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবেন। যদি এটা দিতে না পারে এটা আইনের ব্যত্যয় হবে। এটা দিতে ব্যর্থ হলে নিজস্ব প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সময় বাড়ানোর দাবির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, দলগুলো দিতে না পারলে, যেটা আইনের বিষয় আছে, সেভাবেই হবে। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সিম্বল আছে, সে সিম্বলে রাজনৈতিক দল নির্বাচন করবে। এরপরও যদি ওনারা সময় চান বা কমিশন মনে করেন, এটা কমিশনের বিষয়। এটা কমিশন যদি মনে করে সময় বাড়াবে না। তবে এখনো (গতকাল পর্যন্ত) কেউ সময় বাড়ানোর আবেদন করেনি।

গত শুক্রবার জোটের প্রার্থী বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের সভাপতি/ সম্পাদক/ মহাসচিবকে বলা হয়েছে. ‘অন্য কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাথে যৌথভাবে মনোনীত প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে ১১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করছি।’ চিঠিতে এ বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদের কয়েকটি উপ-অনুচ্ছেদ স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। তাতে বলা আছে, অনুচ্ছেদ ১১-এর উপ-অনুচ্ছেদ (১)-এর অধীনে প্রজ্ঞাপন (নির্বাচনী তফসিল) প্রকাশিত হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে কমিশনের কাছে দরখাস্ত করলে কমিশন দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের যৌথভাব মনোনীত প্রার্থীকে ওই দলগুলোর জন্য নির্ধারিত কোনো প্রতীক বরাদ্দ করতে পারবে।

ইসি সূত্র বলছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে শুধুমাত্র জোট করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো কোন কোন দলের সঙ্গে জোট করবে তা চিঠিতে উল্লেখ করতে হবে। এতে করে বড় দলের প্রতীক নিয়ে নিবন্ধিত ছোট দলের নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তা ছাড়া অনিবন্ধিত দলের সঙ্গে নিবন্ধিত দলের জোট করলেও সমস্যা নেই। সে ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলের প্রতীক নিয়ে অনিবন্ধিত দলের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিলে সমস্যা নেই। তবে অনিবন্ধিত দলের ওই নেতারা নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হিসাবে বিবেচিত হবে।

এ দিকে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জোট করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানোর আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, স্বল্প সময়ে নিবন্ধিত দলগুলোর জোট করার সিদ্ধান্ত দেয়া কঠিন। কেননা মাত্র তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এখনো মনোনয়ন জমার সময় শেষ হয়নি। প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক অনেক ধরনের মেরুকরণ হতে পারে। জোটের পরিধি বাড়তে পারে। এ কারণে তিন দিনের মধ্যে ইসিকে জোট করার বিষয়ে অবগত করার বিধানটি বিড়ম্বনাকর।