তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, দেশের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা করেই বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এমন কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করবে না, যাতে জীব-বৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়।
আজ বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে ‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রকৃতির বিপুল সম্ভারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীদের পরিচিতি ও বৈচিত্র্য তুলে ধরে বইটি প্রকাশ করেছে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আ. ন. ম. আমিনুর রহমান বইটি সম্পাদনা করেছেন।
প্রকাশনা উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবার রহমান, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, বাংলাদেশ সিনেমা এবং টেলিভিশন ইনস্টিটিউট ও ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কামরুন নাহার ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ। একইসাথে প্রকাশিত হয়েছে বইটির ইংরেজি সংস্করণ ‘ওয়াইল্ডলাইফ অব বাংলাদেশ’।
২০৭ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর তথ্য ও রঙিনচিত্র সম্বলিত বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত বইটি দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সকলেরই উচিত দেশের বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জানা। কারণ, এত বিপুল প্রাণীবৈচিত্র্য সকল দেশে নেই। বইটি যেমন আমাদের জানার পরিধি বাড়াবে, তেমনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়েও পাঠককে সচেতন করে তুলবে।
ইনু বলেন, দেশের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা করে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পরিকল্পনাবিদের এ বইটি সহায়তা করবে।
গত বছরের বইমেলায় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর ২০৫ প্রজাতির পাখিদের নিয়ে ‘বার্ডস অব বাংলাদেশ’ গ্রন্থ প্রকাশ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের এ অধিদপ্তর এর আগে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সংকলন’, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ সংকলন’, ‘মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুননেছা’, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে পুস্তক (বঙ্গবন্ধু সহজপাঠ)’ ও ‘মিট বাংলাদেশ’সহ বিভিন্ন বই প্রকাশ করেছে। এছাড়া এ অধিদপ্তর এবারের গ্রন্থমেলায় ‘বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ: সিলেট বিভাগ’ বাউল শাহ আবুদল করিমের জীবনী ও লালন ফকিরের জীবনীর ওপর প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করেছে বলেও তিনি জানান।
তথ্যমন্ত্রী নজরুল মঞ্চে ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর মোহাম্মদের কবিতার বই ‘আমি প্রবাহিত হই’; সৈয়দা রাশিদা বারীর ‘মা-সন্তান’; ফেরদৌস মজুমদারের ‘মুক্তির পথ’ ও শাহনাজ পারভীনের কবিতার বই ‘শুধু তোমারি জন্য’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
মেলার চিত্র
আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় গ্রন্থমেলায় মানুষের ঢল নামে। একদিকে টিএসসি ও অন্যদিকে দোয়েল চত্বর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রন্থানুরাগিরা মেলায় প্রবেশ করেছেন। মেলার পরিসর এবার প্রায় দ্বিগুণ করা স্বত্ত্বেও সন্ধ্যার পর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। এতে পুরো মেলাই ধুলোয় একাকার হয়ে পড়ে।
শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ এক স্টল থেকে আরেক স্টল ঘুরে বই দেখছেন ও পছন্দ হলে কিনছেন।
এ্যাডর্নের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন জানান, আজ সকালে মেলার ঝাঁপ খুললেও লোক সমাগম তেমন ছিল না। তবে বিকেলে লোকজন আসতে শুরু করে। সন্ধ্যায় পুরো মেলা প্রাঙ্গণই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ বিক্রি বেশ ভাল হচ্ছে। শুধু আজই নয়, আগামীকাল ও পরশু ২১শে ফেব্রুয়ারি, এ দু’দিনও বিক্রি ভাল হবে।
নতুন বই
আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৯তম দিনে ২৩৬টি নতুন বই এসেছে। এরমধ্যে গল্প ৩৪টি, উপন্যাস ৪০টি ও কবিতার বই ৫৪টি উল্লেখযোগ্য।
প্রকাশনা উৎসব
আজ বাংলা একাডেমী মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘সোনালী দিনগুলি’র প্রকাশনা উৎসব হয়েছে। এতে অর্থমন্ত্রী, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রকাশক কামরুজ্জামান খন্দকার বক্তৃতা করেন। বইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী।
মূলমঞ্চ
বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় রাধারমণ দত্ত : মৃত্যুশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি মোহাম্মদ সাদিক। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শুভেন্দু ইমাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মাহফুজুর রহমান, বিশ্বজিৎ রায় এবং নৃপেন্দ্রলাল দাশ।

সর্বশেষ সংশোধিত: , মাধ্যম: