Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:০৯ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

জিয়াউর রহমান
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তথা বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান

জিয়া-বিএনপির নামধারী মুক্তিযোদ্ধারাও ‘মুক্তিযুদ্ধ’ করেননি : গণপূর্ত মন্ত্রী

mosarrof

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জিয়াউর রহমান যুদ্ধ ক্ষেত্রে ছিলেন কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ করেননি।
পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আল-বদর, আল-শামস বাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। তারা নির্বিচারে গণহত্যা ও নারী নির্যাতন চালিয়েছে। এ জন্য জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২৪তম দিনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, হুইপ মো. শাহাবুদ্দিন, খন্দকার আজিজুল হক আরজু, সরকারি দলের পংকজ নাথ, ডা. মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, মো. আব্দুল মালেক, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও বেগম সালমা ইসলাম আলোচনায় অংশ নেন।
গত ২০ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
গত ২৪ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ ইকবালুর রহিম তা সমর্থন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, যুদ্ধ যেখানে চলতো সেখানে জিয়াউর রহমান থাকতেন না। তিনি সবসময় সেলের রেঞ্জের বাইরে থাকতেন। শুধু জিয়াই নয় বিএনপিতে অনেক নামধারী মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে, যারা কখনো যুদ্ধই করেননি।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ তিনি যুদ্ধের সময় ক্যান্টনমেন্টে পকিস্তান আর্মির মেহমান হিসেবে ছিলেন। ফলে মুক্তিযুদ্ধে কত মানুষ শহীদ হয়েছে, তা তার জানার কথা নয়। একজন শহীদের লাশও তিনি ওই সময় দেখেননি। অতএব শহীদের সংখ্যা নিয়ে তার সংশয় থাকারই কথা।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ রাতে যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তার মূল বক্তব্য আমি এবং চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান কায়সারের নেতৃত্বে ২৬ মার্চে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। পরে ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
বিডিআর বিদ্রোহের দিবসকে স্মরণ করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসি ও বিচক্ষণ পদক্ষেপের ফলে দেশ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। দেশে কোন আইএস বা জঙ্গি-সন্ত্রাসী নেই।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৫০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছে। এদের প্রত্যেকের জন্য আবাসিক সুবিধা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাত্র ৮ শতাংশ আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। শিগগিরই শতভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, তদন্ত কমিশন গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে কার কি ভূমিকা তা বের করে ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী জিয়া-মোস্তাকদের মরণোত্তর বিচার করতে হবে। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক সরকারের অধীনে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বাকি ১০জন সেক্টর কমান্ডার তার কথার প্রতিবাদ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা না করলে ওই সরকার হবে বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকার।
তিনি বলেন, এরপরও খন্দকার মোস্তাক, মাহবুবুল আলম চাষী ও জিয়াউর রহমানসহ আরো অনেকে সেদিন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়ার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য তাকে দু’বার বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারা কখনো যে মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী ছিল না তা তাদের কর্মকান্ডেই প্রমাণ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের শুধু দেশত্যাগে সহযোগিতাই করেনি, খুনিদের বিদেশী দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করেছে। শাহ আজিজের মতো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করেছে।
মন্ত্রী বলেন, জিয়ার মতো যারা মুক্তিযোদ্ধা সেজে পাকিস্তানী ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিল এ ধরনের লোকদের কবর জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করে মূল নকশা অনুযায়ী সংসদের অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানি ভাতা চালু করেন। বর্তমানে এ ভাতা ১০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। আগামী বাজেটের পর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ২টি ঈদ বোনাস এবং তাদের জন্য সকল ধরনের চিকিৎসা, ওষুধ, টেস্ট বিনামূল্যে করার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা যেমন পাঠ্যপুস্তকে থাকবে তেমনি রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস’র মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বাঙালি জাতির দীর্ঘ ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস ও নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিসিএস ১শ’ নম্বর অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রয়েছে।
তিনি বলেন, সকল মুক্তিযোদ্ধার কবর, গণহত্যার স্থান, বধ্যভূমি একই ডিজাইনে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ১শ’ বছর পরও মানুষ এ স্থানগুলো দেখে চিনতে পারে। সম্মুখ সমরের স্থান ও ঐতিহাসিক প্রত্যেকটি স্থান সংরক্ষণ করা হবে এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, নির্যাতিত মা-বোনসহ মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা উচিত। এছাড়া তাদের সন্তানরা যাতে সরকারি চাকরি না পায় ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে এ ব্যবস্থাও করতে হবে এবং ইতোমধ্যে যারা সরকারি চাকরি পেয়েছে তাদের চাকরিচ্যুত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, পল্লী উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন প্রসূত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় ২২ লাখ দরিদ্র পরিবারের ১ কোটির ওপর জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় ৪৮৫টি উপজেলার ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডে ৪০ হাজার ৫২৭টি গ্রামে এ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে ১৭৭টি সমিতির মাধ্যমে ৯ হাজার ৫৫৭টি পরিবারের ৪৭ হাজারের ওপর দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হচ্ছে। এসব দরিদ্র উপকারভোগীদের বর্তমান মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, এ তহবিলের মধ্যে সদস্যগণের নিজস্ব সঞ্চয় ৩.৮৬ কোটি টাকা, সরকারি অনুদান ৬.৮৭ কোটি টাকা এবং এর সাথে ব্যাংক সুদ ও সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়ে ১১.০৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমিতির সদস্যগণ উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উক্ত তহবিল থেকে ৯.৯১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৭ হাজার ৪৩৭টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়বর্ধক খামার গড়ে তোলা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমেই ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে সব সময় বিরোধী দল সহযোগিতা করে যাবে। সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত একটি দলিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখাতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের এ সাফল্য অব্যাহত রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ক্রীড়া একটি দেশের জাতীয় পরিচয়ের অনুষঙ্গ। ক্রীড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপনের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে বাদ দিয়ে একটি দেশের উন্নয়ন কর্মকন্ড কখনও এগিয়ে যেতে পারে না। তাই সরকার দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে যুব সম্প্রদায়কে আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে দেশের উন্নয়নকে অধিকতর গতিশীল করছে।