Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৪৭ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ফটো

‘জিয়ার পদক প্রত্যাহার সংকীর্ণতা, আত্মঘাতী এবং নোংরা কাজ’

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারে মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির মতে, এটি সংকীর্ণতা, আত্মঘাতী এবং নোংরা কাজ।

শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পদক প্রত্যাহারের বিষয়ে শুক্রবার প্রকাশিত দুটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারই ২০০৩ সালে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন। সেবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান- এই দুজনকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়।

তার দাবি, এটা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির পরম ঔদার্য্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্বাচিত একটি সাংবিধানিক সরকারের দেয়া এই সম্মাননার বিষয়ে বর্তমান বিতর্কিত আওয়ামী লীগ সরকার এরকম একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এমন একটি সরকার এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যাদের নির্বাচন নিয়ে শুধু প্রশ্ন নয়, জনগণ সবাই জানে- ওই নির্বাচন ছিল জনগণের একেবারে কোনো রকম অংশগ্রহণ ছাড়াই। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতায় এসে নিজেদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, ‘যিনি (জিয়াউর রহমান) পদক প্রবর্তন করলেন, তিনি বাদ। কিন্তু পদক থাকবে, তার কীর্তিও থাকবে। এটা যে কত বড় সংকীর্ণতা, আত্মঘাতী ও নোংরা কাজ, সেটা আওয়ামী লীগ যেদিন বুঝবে, সেদিন আর শোধরাবারও সুযোগ হয়ত থাকবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, যারা গায়ের জোরে নোংরাভাবে জিয়াউর রহমানকে মুছতে চাইছে, তাতে তিনি ফিরলে হয়ত একইভাবে তারাও মুছে যেতে পারেন।

এসময় মুক্তিযুদ্ধ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জিয়াউর রহমানের বহুমুখী অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটি কথা আমি খুব একটা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই- বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যে রাজনীতি করছে, তা বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ গণতন্ত্রকে ধবংস করে দিয়ে মানুষের বাকস্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা- সব কিছুই হরণ করে নেয়া হয়েছে। সেই অবস্থার মধ্যে আওয়ামী লীগ দেশকে চরম সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করছি, শনিবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই সুন্দরবনের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে না- এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। কারণ এটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান ও নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহামচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।