ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:১২ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

জিহাদকে উদ্ধার নিয়ে যতকথা

দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েও শিশু জিহাদকে উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এরপর জিহাদের কোন অস্তিত্ব নেই এমন ঘোষণা দিয়ে উদ্ধার কাজ স্থগিত করেন তারা। কিন্তু তাদের ঘোষণার ২০ মিনিট পর ৬’শ ফিট গভীর ওই পাইপের ভেতর থেকেই স্থানীয়রা জাল ফেলে উদ্ধার করলো শিশু জিহাদকে!শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির পাইপে পড়ে যাওয়া জিহাদকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করার পর থেকেই এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে কানাঘুষা চলছিল।

ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ও বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন সময় দেওয়া তথ্যে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল।

রাত ২ টায়ও জিহাদকে উদ্ধার না হওয়ায় আসলে পাইপের মধ্যে জিহাদ নামে কোন শিশু আছে কিনা এমন প্রশ্ন দেখা দেয় সাধারণ মানুষের মনে।

এনিয়ে সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমগুলোতেও শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।

কেউ কেউ এটাকে গাজীপুর ইস্যু থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই এমন ঘটনা সাজানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ বলছেন এটা সাভারের রেশমা নাটক।

এদিকে এ ঘটনায় জিহাদের বাবাকে রাত ৩ টায় থানায় নিয়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন। সন্দেহ ঘনীভূত হয়; জিহাদের বাবার সাথে প্রশাসন কোন রফাদফা করছে কিনা?

অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২৩ ঘণ্টার বিরতিহীন উদ্ধার অভিযান চালিয়েও পাইপের ভেতর জিহাদ নামে কোন শিশুর অস্তিত্ব না পেয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করা হয়!

উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লোকজন এটাকে সরকারের সাজানো নাটক বলেও মন্তব্য করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্যেও জনসাধারণের মধ্যে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, পাইপের ভেতর যদি জিহাদ নামে কোন শিশুর অস্তিত্ব যদি নাই থেকে থাকে তাহলে ‘আমি রশি ধরতে পারছি না’ জিহাদের এমন কথা তারা কোথায় পেয়েছিল?

ফায়ার সার্ভিসের লোকজন শুক্রবার সন্ধ্যার পর বারবার বলেছিলেন; জিহাদ জীবিত আছে, সে উঠার জন্য কয়েকবার রশি ধরেছিল কিন্তু দুর্বল হয়ে যাওয়ায় রশি আঁকড়ে ধরে রাখতে পারেনি।

তাই মানুষের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়; পাইপের ভেতর যদি জিহাদের অস্তিত্ব না থাকে তাহলে বারবার জিহাদ রশি ধরে কিভাবে?

অনেকে বলছেন, পাইপের ভেতর জিহাদ না থাকলে অক্সিজেন, জুস আর বিস্কুট কার জন্য পাইপের ভেতর দেওয়া হয়েছিল?

মানুষের এসব আলোচনা-সমালোচনা আর কানাঘুষার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণার ২০-২৫ মিনিট পরই হঠাৎ ঘোষণা দেওয়া হলো পাইপের ভেতর জিহাদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

সাথে সাথেই পাইপ থেকে জিহাদকে উদ্ধার করা হলো। তাও আবার কোন বিশেষজ্ঞ দলের লোকজন নয়, স্থানীয় কয়েকজন গাড়ির মেকানিক জাল দিয়ে ক্যাচার বানিয়ে জিহাদকে উদ্ধার করেছে।

এ নিয়ে এখন আবার নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন লোকজন বলাবলি করছে, রাষ্ট্রের সকল টেকনলজি আর বিশেষজ্ঞরা যখন জিহাদ উদ্ধারে ব্যর্থ বা কোন অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি তখন কয়েকজন সাধারণ মানুষের পক্ষে জিহাদকে উদ্ধার করা কিভাবে সম্ভব?

আর ২৩ ঘণ্টার বিরতিহীন অভিযানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা দিয়েও যেখানে বিশেষজ্ঞরা জিহাদকে পায়নি। সেখানে উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণার ২৫ মিনিটের মাথায় স্থানীয়রা পাইপের ভেতর জিহাদের অস্তিত্ব খুঁজে পেল কিভাবে এবং এত অল্প সময়ে তারা কিভাবে জিহাদকে উদ্ধার করতে পারলো তা নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হল; জিহাদ পাইপের ভেতরে থেকে থাকলেও সে অচেতন অবস্থায় ছিল। তার কোন জ্ঞান ছিল না। আর পাইপের ভেতর কোন মানুষের পক্ষে যাওয়া সম্ভব না। তাহলে জাল দিয়ে তাকে এভাবে পেঁচিয়ে তোলা সম্ভব হলো কিভাবে তা নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে।

জিহাদ উদ্ধার ঘটনা নিয়ে মানুষের মধ্যে এখন যে সব প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো নিরসনের দায়িত্ব সরকারের।

সচেতন মানুষেরা মনে করছেন, মানুষের মনে যেসব সন্দেহ-সংশয় আর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সেসব প্রশ্নের জবাব সরকারের পক্ষ থেকেই দেওয়া দরকার।